গো-হত্যায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোলপাড় রায়! বিজয় সরকারের আবেদনে থমকে গেল হাইকোর্টের নির্দেশ

গো-হত্যা নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়ের ওপর বড়সড় স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তামিলনাড়ুতে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ উচ্চ আদালত দিয়েছিল, সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত তাতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। অভিনেতা তথা রাজনীতিবিদ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত, যা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন বিজয়ের সরকারের:
গত মে মাসে কোয়েম্বত্তূরের বাসিন্দা কে সূর্য প্রশান্তের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের অবসরকালীন বেঞ্চ তামিলনাড়ুতে দ্রুত গো-হত্যা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গো-হত্যা বন্ধ হলে রাজ্যে দুধের উৎপাদন বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত হবে।
কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজয় সরকার। রাজ্যের যুক্তি ছিল, মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই নির্দেশ ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই আইনে স্পষ্ট বলা রয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সি যে সব গরু প্রজননে বা কাজ করতে অক্ষম, নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কেবল সেগুলিই জবাই করা সম্ভব। ফলে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট মূলত রাজ্যের আইনসভার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নিজেদের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে রায় দিয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টও রাজ্য সরকারের যুক্তির সঙ্গে সহমত পোষণ করে জানায়, মাদ্রাজ হাইকোর্টের ওই নির্দেশ ‘সংশোধন’ করা প্রয়োজন।
ধর্মীয় ও সামাজিক রীতির প্রসঙ্গ:
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির বিষয়টিও এই মামলায় উঠে এসেছে। প্রথাগতভাবে মুসলিম সম্প্রদায় বকরি ঈদের সময় ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় জমায়েতে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর বহু হিন্দু মন্দিরেও বার্ষিক উৎসবের সময় আচার মেনে পশু বলির রেওয়াজ রয়েছে। সম্প্রদায়ের নেতাদের দাবি, উৎসবের দিনগুলিতে বিপুল চাহিদা সামলানোর মতো পরিকাঠামো সাধারণ কসাইখানাগুলির নেই। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলত। আপাতত শীর্ষ আদালতের এই স্থগিতাদেশে তামিলনাড়ু সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলি বড়সড় স্বস্তি পেল।