রথযাত্রার মুখে নবান্নের মাস্টারস্ট্রোক, সোজা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে লাখ লাখ টাকা! তালিকায় আপনার এলাকার রথ নেই তো?

বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও শত শত বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে অনন্য সম্মান জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবগুলিকে আরও সুশৃঙ্খল ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা করে বড় অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছে নবান্ন। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকার সরাসরি রথযাত্রার মতো একটি বৃহৎ ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য এমন মেগা আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নিল। সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে স্বভাবতই খুশির হাওয়া রথযাত্রা কমিটির সদস্য ও পুণ্যার্থীদের মনে।
বাছাই তালিকায় মাহেশ থেকে মহিষাদল:
নবান্নের নির্দেশিকা এবং জেলাশাসকদের (DM) দেওয়া পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্টের ভিত্তিতে ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে এই অনুদানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে এমন প্রায় ২৬টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটি। যার মধ্যে অন্যতম হুগলির বিশ্ববিখ্যাত মাহেশের রথযাত্রা। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী মহিষাদল, মেছেদা ইসকন মন্দির, তমলুক মহাপ্রভু মন্দির এবং দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রাও এই সরকারি অনুদানের আওতায় এসেছে।
শুরু হল চেক প্রদান, ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা:
১৩ জুলাই ২০২৬ থেকে জেলাশাসকদের মাধ্যমে বাছাইকৃত কমিটিগুলির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অনুদানের অর্থ রথ নির্মাণ, সাজসজ্জা এবং সেবা শিবির পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি, রথযাত্রা চলাকালীন পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে নবান্নের তরফে প্রতিটি জেলায় বিশেষ ‘সেবা শিবির’ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পানীয় জল, ওআরএস (ORS) এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করার জন্য অতিরিক্ত আরও ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।