দপ্তর থেকে সরল অভিষেকের ছবি! শুভেন্দুকে ‘লড়াকু’ তকমা দিয়ে এ কী খেল দেখালেন অনুব্রত? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই সরগরম বীরভূম তথা বাংলার রাজনীতি। কিন্তু জেল থেকে ফেরার পর কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) সাম্প্রতিক একটি পদক্ষেপ এবং বিস্ফোরক মন্তব্য এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুব্রতর বীরভূমের কার্যালয় থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ছবি উধাও হতেই চরম শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। অথচ, একই ঘরে সগৌরবে শোভা পাচ্ছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি! আর এই ছবি-বিতর্কের মাঝেই বিজেপি সরকার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কেষ্ট।

অভিষেকের ছবি উধাও, কী সাফাই কেষ্টর?
সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে আবারও বীরভূম জেলা সভাপতির পদ ফিরে পেয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু জেলা কার্যালয়ে তাঁর বসার ঘরের দেওয়ালে মমতার ছবি থাকলেও, অভিষেকের ছবি উধাও হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়।

এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য স্বভাবসিদ্ধ ঢঙেই সাফাই দিয়েছেন অনুব্রত। তিনি দাবি করেন, “আমি তো অফিসে আমার সাথে অভিষেকের কোনো ছবিই নোটিশ করিনি।” তবে দলনেত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সবসময় থাকবে, কারণ তিনিই আমাদের নেত্রী।” এর পাশাপাশি নিজের বাড়িতে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর ছবি সযত্নে রাখা আছে জানিয়ে তিনি যোগ করেন, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছাড়লেও তিনি এই নেতাদের ছবি আজও শ্রদ্ধার সাথে রেখে দিয়েছেন।

দলনেত্রীকে মানলেও যুবনেত্রীকে দূরত্ব?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ কিন্তু এই ‘ছবি অন্তর্ধান’ এবং অনুব্রতর বয়ানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির বারবার বার্তা দিচ্ছে যে, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে পুরোপুরি মেনে নিতে পারছে না। অনুব্রতর এই পদক্ষেপও কি তবে সেই একই লাইনেই চলছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে।

শুভেন্দুকে ‘লড়াকু’ সার্টিফিকেট, বিজেপি সরকারের প্রশংসা!
জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে এদিন সরাসরি বিজেপি সরকার এবং শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দরাজ প্রশংসা শোনা গেল বীরভূমের বেতাজ বাদশাহের গলায়। অনুব্রত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপি যেহেতু ক্ষমতায় এসেছে, তারা উন্নয়নের জন্যই কাজ করবে এবং বর্তমান সরকার ভালো কাজই করছে।”

এখানেই শেষ নয়, তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি ‘লড়াকু বীর’ তকমা দিয়ে কেষ্ট বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী একজন সত্যিকারের যোদ্ধা। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করে চলেছে।”

অনুব্রত মণ্ডলের এই সুর বদল এবং শুভেন্দুর প্রতি এই অকুণ্ঠ প্রশংসা বাংলায় শাসক দলের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও এই নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া না হলেও, কেষ্টর এই ‘খেলা’ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *