আমির খানের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক! হত্যার হুমকির ঘটনায় তোলপাড়, কড়া প্রতিক্রিয়া অভিনেতার!

গত ৫ জুলাই পরিচালক ও অভিনেতা আমির খান এবং গৌরী স্প্রাটের বিয়ের পর থেকে শুরু হয়েছে এক চরম বিতর্ক। ব্যক্তিগত জীবনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে একদিকে যেমন রাজনৈতিক নেতাদের তীর্যক মন্তব্যের ঝড় উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে ধর্মীয় চরমপন্থীদের হুমকির মুখে পড়েছেন অভিনেতা। কী বললেন বিজেপি মন্ত্রী ও ধর্মীয় নেতা?মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নীতীশ রাণে আমির খানকে ‘লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ বলে অভিহিত করেছেন। তার এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই অযোধ্যা-ভিত্তিক ধর্মীয় নেতা জগৎগুরু পরমহংস আচার্য আমির খানকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে বা যারা আমির খানকে হত্যা করবে, তাদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেবেন এবং সমস্ত আইনি লড়াইয়ের দায়িত্বও নিজের কাঁধে নেবেন। মন্ত্রীর বক্তব্যের সমর্থনে এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আমির খানের কড়া জবাব:এতদিন চুপ থাকলেও অবশেষে মুখ খুলেছেন আমির খান। রেডফিফ (Rediff)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আমির বলেন, “আমাদের পরিবার অত্যন্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক (inclusive)। আমার বোনরা হিন্দু পরিবারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন, আমার মেয়েও এক হিন্দুকে বিয়ে করেছে। আমার ভাইপো মনসুর বিয়ে করেছেন একজন খ্রিস্টানকে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, তার কোনো স্ত্রীই (রীনা দত্ত, কিরণ রাও বা বর্তমান স্ত্রী গৌরী স্প্রাট) বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হননি। কারণ তাদের বিয়েগুলো ছিল দেওয়ানি বা সিভিল ম্যারেজ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “গৌরী হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান, তাও আবার ধর্মানুসারী নন। সময় যত গড়াচ্ছে, জীবন যেন ততই হাস্যকর হয়ে উঠছে।”আরেক বিতর্ক: ফতোয়া জারিএদিকে, ইউপি-র শাহি চিফ মুফতি মাওলানা চৌধুরী ইব্রাহিম হোসেন আমিরের এই বিয়েকে ‘শরিয়া বিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। মৌলানার দাবি, একজন মুসলিম পুরুষের অ-মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করা ইসলামে নিষিদ্ধ বা ‘হারাম’।প্রেক্ষাপট:উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় আমির খানের বাসভবনে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গৌরী স্প্রাটের সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন আমির। সেই অনুষ্ঠানে তার প্রাক্তন স্ত্রী রীনা দত্ত এবং কিরণ রাও-সহ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিগত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে যেভাবে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বুদ্ধিজীবী মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *