বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি! উদ্ধার ৯ মৎস্যজীবীর দেহ, নিখোঁজ ৬

বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় উদ্ধারকাজে নেমে এল ভয়াবহ তথ্য। মাঝ সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়া ‘মা কালী’ নামক ট্রলার থেকে রবিবার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৯ জন মৎস্যজীবীর নিথর দেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬ জন মৎস্যজীবী। এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৎস্যজীবী মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার শঙ্করপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য রওনা দিয়েছিল ট্রলারটি। মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন তাতে। ৫ জুলাইয়ের পর থেকেই ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টানা আট দিন ধরে চলে হন্যে তল্লাশি। অবশেষে বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঘেরচরের কাছে ট্রলারটির হদিস মেলে।

রাতভর উদ্ধার অভিযান
রবিবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর থানার পুলিশ, বনদফতর এবং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় ডুবো ট্রলারটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে সীতারামপুরে আনা হয়। রাতভর অভিযান চালিয়ে ট্রলারের ভিতর থেকে ৯টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ ৬ জনকে খুঁজতে আজও জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কী বললেন প্রতিমন্ত্রী?
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পাওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশেই আমি এখানে এসেছি। উদ্ধারকাজ চলছে। ট্রলারের ভেতরে আরও দেহ আটকে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শোকাহত পরিবারের পাশে আছে সরকার।”

প্রশাসনের অনুমান
প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের অনুমান, গভীর সমুদ্রে দুর্যোগের কবলে পড়েই ট্রলারটি উল্টে গিয়েছিল। এর ফলেই মৎস্যজীবীরা ট্রলারের ভেতরেই আটকে পড়েন অথবা সমুদ্রে তলিয়ে যান। শঙ্করপুর থেকে ট্রলারের মালিকপক্ষ কাকদ্বীপ ও নামখানায় পৌঁছেছেন। মৎস্যজীবী সংগঠনের অন্যান্য ট্রলারগুলিও উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে। গোটা ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *