তৃণমূলের বিপর্যয় নিয়ে বিস্ফোরক রবীন্দ্রনাথ: ‘অভিষেকের খামখেয়ালিপনাতেই দলের এই দশা, ওকে সাইড করে দেওয়া উচিত’

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের প্রকাশ্যে চলে এল প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই বিস্ফোরক প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করলেন, অভিষেককে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলেই তৃণমূলের হারানো কর্মী ও নেতারা আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ফিরে আসবেন।

কী বললেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ? কোচবিহারের জেলা রাজনীতিতে একসময়ের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এদিন কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের ক্ষমতা ছিল না। ক্ষমতা অন্য কোথাও কুক্ষিগত হয়ে পড়েছিল। যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তাঁরা লুটেপুটে খেয়েছেন আর সাধারণ কর্মীরা অত্যাচারিত হয়েছেন।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভ ঝরিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “যতদিন পৃথিবী থাকবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার নেত্রী। কিন্তু দলের আজকের এই বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুল সিদ্ধান্ত ও খামখেয়ালিপনাই দায়ী। ৮০ জন মন্ত্রী-বিধায়ককে টিকিট না দিয়ে অনভিজ্ঞদের সামনের সারিতে এনে উনি দলকে ডোবানোর কাজ করেছেন। ওঁকে কিছুদিনের জন্য রাজনীতির আঙিনা থেকে সরিয়ে দেওয়াই দলের মঙ্গলের জন্য একমাত্র পথ।”

দলীয় সমীকরণ নিয়ে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান ঋতব্রত শিবিরের কোচবিহার জেলা সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণার পর রবীন্দ্রনাথ জানান, তৃণমূলের মূল স্রোতের সঙ্গেই তিনি থাকতে চান। তাঁর কথায়, “ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কিছু নেই, পুরোটাই তৃণমূল। দলের সিংহভাগ নেতা-কর্মী যেদিকে রয়েছেন, আমিও সেদিকেই। উত্তরবঙ্গ থেকে এবার রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি বাছা হয়েছে, যা আগে কল্পনাও করা যায়নি। তাই বৃহত্তর স্বার্থে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সম্মান জানানোই আমার দায়িত্ব।”

বিস্ফোরক অভিযোগ অভিযোগের সুর চড়িয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, ভোটের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা অনেকে গা ঢাকা দিলেও তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরাই এখন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। সেই কর্মীবাহিনীর পাশে দাঁড়াতেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতার এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একদিকে যখন দল অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন রবীন্দ্রনাথের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *