মমতার হাত ছাড়লেন ‘কেষ্ট’! বীরভূমে এবার ঋতব্রতর বাজি অনুব্রত?

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ভূমিকম্প! শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ছায়াসঙ্গী অনুব্রত মণ্ডল যোগ দিলেন ‘বিদ্রোহী’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। কালবিলম্ব না করেই তাঁকে বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে নিযুক্ত করেছে ঋতব্রত শিবির। মমতার স্নেহের ‘কেষ্ট’র এই শিবির বদল রাজ্যের বর্তমান রাজনীতিতে যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।
পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই দলবদলের চিত্রনাট্য গত ২৪ ঘণ্টাতেই চূড়ান্ত হয়েছে। শুক্রবার বিধানসভায় প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঋতব্রতর গোপন বৈঠকের পরই অনুব্রতকে ফোন করা হয়। অত্যন্ত প্রভাবশালী ওই বিধায়কের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের পরেই কেষ্টর শিবির বদলের সিদ্ধান্ত পাকাপাকি হয়ে যায়।
‘গলায় ব্যথা’ই কি ছিল বিদ্রোহের সঙ্কেত? নির্বাচনের পর থেকেই অনুব্রতের বক্তব্যে সুর বদলের আভাস মিলছিল। কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে কথা বলা, আবার কখনও “সম্মান না পেলে দল করব না”—এমন মন্তব্যে জল্পনা দানা বাঁধছিল। এমনকি দলবদলের ঠিক আগের মুহূর্তেও শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখেন তিনি। এদিন ফোনে তিনি জানান, ঋতব্রতর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে ‘গলায় ব্যথার’ কথা বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
বীরভূমে কি ব্যাকফুটে মমতা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বীরভূমের মাটিতে অনুব্রতের প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। কেষ্টহীন বীরভূমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সংগঠন ধরে রাখা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে। রাঙামাটির জেলার রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।