শুধু মাকে নয়, চাকরির লোভে বাবাকেও খুন? জয়পুর কাণ্ডে এবার নতুন মোড়

মা নীরজ শর্মা খুনের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জয়পুরের চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন একের পর এক নতুন মোড় সামনে আসছে। মায়ের হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া মেয়ে আয়ুষি শর্মার বিরুদ্ধে এবার নিজের বাবা বিজয় শর্মার অস্বাভাবিক মৃত্যুরও অভিযোগ তুললেন নিহতের ভাই তথা আয়ুষির মামা রাকেশ শর্মা।

নতুন কী অভিযোগ? রাকেশ শর্মার অভিযোগ, আয়ুষি সরকারি চাকরি পাওয়ার লোভে গত বছর নিজের বাবাকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পরিবারের দাবি, বিজয় শর্মার মৃত্যুর পর সহানুভূতির ভিত্তিতে স্ত্রী নীরজ শর্মা চাকরি পেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, সেই চাকরিটি নিজের নামে পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই মায়ের প্রতি আয়ুষির তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

রহস্যজনক অসুস্থতা ও মৃত্যু: মামা রাকেশের অভিযোগের ভিত্তিতে যে কয়েকটি দিক এখন তদন্তের আওতায়:

  • চিকিৎসার আড়ালে ষড়যন্ত্র: বাবা বিজয় শর্মার অসুস্থতার সময় আয়ুষি ও তাঁর তুতো ভাই বলরাম চিকিৎসার দায়িত্ব নিজেরা নিয়েছিলেন এবং প্রায় তিন মাস পরিবারের কাউকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

  • শারীরিক অবস্থা: তিন মাস পর বিজয়কে যখন হাসপাতালে দেখা যায়, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। চিকিৎসকদের কাছেও তাঁর অসুস্থতার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

  • হুমকি ও মেসেজ: বাবার মৃত্যুর আগে আয়ুষি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, “বাবার ফিডিং টিউব খুলে দিতে এক মুহূর্তও লাগবে না।” এমনকি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া স্ট্যাটাসেও এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ছিল বলে দাবি।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য: জেরায় আয়ুষি স্বীকার করেছে যে, সে তাঁর মা নীরজ শর্মাকে পছন্দ করত না। তাঁর অভিযোগ ছিল, মা তাঁর প্রতিবন্ধী ভাইকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, আয়ুষি তুতো ভাই বলরামকে সঙ্গে নিয়ে মা ও বাবার ওপর এই চক্রান্ত চালিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজয়ের চিকিৎসার নথিগুলোও আয়ুষি পরিবারের থেকে গোপন রেখেছিল বলে অভিযোগ।

যদিও বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পুনর্তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মা-কে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে ইতিমধ্যেই গারদে থাকা আয়ুষি এখন বাবার মৃত্যুর রহস্য নিয়েও চরম আইনি বিপাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *