টিকিট পাননি প্রিয় নেতা, ১২ ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ বিজেপি কর্মীদের, লাঠিচার্জ পুলিশের

আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে চরম বিশৃঙ্খলা। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রকে প্রার্থী না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর অনুগামীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, ১২ ঘণ্টার অবরোধের পর পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়, যার জেরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিবাদের সূত্রপাত: ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় কংগ্রেস বিধায়ক আশুতোষ মিশ্রর বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার পর আগামী ৩০ জুলাই দাতিয়ায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আসনে বিজেপির প্রবীণ নেতা নরোত্তম মিশ্রর বদলে দল যুবনেতা আশুতোষ তিওয়ারিকে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ জেলা বিজেপির একাংশ।
বিক্ষোভের রূপরেখা:
-
গণ-ইস্তফা: জেলা বিজেপি সভাপতি রঘুবীর সিং কুশওয়াহর নেতৃত্বে জেলা সংগঠনের প্রায় সমস্ত নেতা দলীয় পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেছেন। তারা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, নরোত্তম মিশ্রকে প্রার্থী করা না হলে তারা দলত্যাগ করবেন।
-
সড়ক অবরোধ: শুক্রবার রাত থেকে দাতিয়া জেলা বিজেপি দপ্তরে ভাঙচুরের পর প্রায় ৩ হাজার কর্মী-সমর্থক ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। ১২ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের জেরে গোয়ালিয়ার-ঝাঁসি রুটে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়।
-
পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ: বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও অবরোধ না তোলায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পাল্টা বিক্ষোভকারীরা ইটের বৃষ্টি করলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: একসময়ের শক্তিশালী বিজেপি নেতা নরোত্তম মিশ্র ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনে দাতিয়া কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছিলেন। সেই পরাজয়ের পর থেকেই দলে তাঁর প্রভাব ও সমীকরণ বদলে যায়। এবার উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী না করাকেই তাঁর অনুগামীরা দলের বড় ভুল হিসেবে দেখছেন।
পুলিশ সুপার ময়ূর খাণ্ডেলওয়াল জানিয়েছেন, দীর্ঘ অবরোধের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও, রাজনৈতিক এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আঁচ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এই গণ-ইস্তফা ও বিদ্রোহকে কীভাবে সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার।