অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি! প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাসের গ্রেফতারিতে রণক্ষেত্র বেহালা

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক চরম ও অমানবিক অভিযোগ সামনে এল বেহালা থেকে। ২০২০ সালে সংঘটিত এক ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জন দাস ও তাঁর সহযোগী ভোলা সরকার।
ঘটনার সূত্রপাত:
অভিযোগকারিনী বিজয়া ঘোষের দাবি, ২০২০ সালে তাঁর পরিবার বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণেই অঞ্জন দাস ও তাঁর অনুগামীরা তাঁদের ওপর রাজনৈতিক আক্রোশ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময়ে বিজয়া ঘোষ অন্তঃসত্ত্বা থাকা সত্ত্বেও অঞ্জন দাস তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন এবং পেটে লাথি মারেন। শুধু এখানেই শেষ নয়, বারবার তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
মানসিক বিপর্যয় ও আইনি লড়াই:
ভুক্তভোগীর দাবি, এই অত্যাচারের ফলে তাঁদের গোটা পরিবার চূড়ান্ত মানসিক অবসাদের শিকার হয়। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তাঁর শ্বশুর আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ভয়ের পরিবেশে থাকার পর, সরকার পরিবর্তনের আবহে সম্প্রতি বিজয়া ঘোষ পর্ণশ্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তেজনা:
গ্রেফতারের পর অঞ্জন দাসকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অভিযুক্তদের ‘চোর’ বলে স্লোগান দেওয়া হয় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষপর্যন্ত পর্ণশ্রী থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিচার চেয়ে সরব পরিবার:
বিজয়া ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দাবি করেন। আইনের সাহায্য নিয়ে তিনি চান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়। এই ঘটনা বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।