পাম্পে তেল ভরানোর আগে সাবধান! পেট্রোল আসল না ভেজাল? জেনে নিন চেনার সহজ উপায়

পেট্রোল বা ডিজেলে ভেজাল মেশানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা জ্বালানিতে কেরোসিন বা অন্য রাসায়নিক মিশিয়ে দেয়, যা আপনার স্বপ্নের চারচাকা বা দুইচাকার ইঞ্জিনের বারোটা বাজানোর জন্য যথেষ্ট। গ্রাহক হিসেবে আপনার এই ভেজাল শনাক্ত করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

ফিল্টার পেপার পরীক্ষা: পদ্ধতি ও নিয়ম
ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ‘ফিল্টার পেপার’ রাখা বাধ্যতামূলক। আপনি যদি তেলের গুণমান নিয়ে সন্দেহ করেন, তবে পাম্প কর্মীরা তা দেখাতে অস্বীকার করতে পারেন না।

পরীক্ষা করার পদ্ধতি:
১. কাগজ সংগ্রহ: পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের কাছে ‘ফিল্টার পেপার টেস্ট’-এর জন্য বিশেষ ফিল্টার পেপারটি চেয়ে নিন।
২. তেল প্রয়োগ: পেপারের ওপর কয়েক ফোঁটা পেট্রোল বা ডিজেল ফেলুন।
৩. অপেক্ষা: তেলটুকু বাষ্পীভূত হওয়ার জন্য অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিট সময় দিন।

ফলাফল দেখে যা বুঝবেন:

আসল বা বিশুদ্ধ তেল: যদি তেল শুকিয়ে যাওয়ার পর ফিল্টার পেপারে কোনো দাগ বা রঙের চিহ্ন না থাকে এবং কাগজটি একেবারে পরিষ্কার দেখায়, তবে বুঝতে হবে তেলটি খাঁটি।

ভেজাল তেল: যদি শুকানোর পর কাগজে কোনো তেলচিটে ভাব, ছোপ বা অন্য কোনো রঙের দাগ থেকে যায়, তবে নিশ্চিতভাবে সেই তেলে কেরোসিন বা অন্যান্য রাসায়নিক ভেজাল মেশানো আছে।

ভেজাল ধরা পড়লে আপনার কর্তব্য:
যদি পরীক্ষায় ভেজাল প্রমাণিত হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নিন:

অভিযোগ দায়ের: প্রতিটি পাম্পেই অয়েল মার্কেটিং কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার নম্বর বা টোল-ফ্রি নম্বর দেওয়া থাকে। অবিলম্বে সেখানে ফোন করে অভিযোগ জানান।

সরাসরি নজরে আনা: আপনি চাইলে সেই পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজারকে বিষয়টি সরাসরি জানিয়ে তার কাছে যথাযথ ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *