‘১৬ জুলাই পুরীতে ঢুকতে দেব না’,-ইসকনের বিরুদ্ধে কেন গর্জে উঠল কলিঙ্গ সেনা?

রথযাত্রা উদযাপনকে কেন্দ্র করে ওড়িশায় দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। শ্রীজগন্নাথের প্রাচীন ধর্মীয় রীতিনীতি ও পরম্পরা লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসকনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন ‘কলিঙ্গ সেনা’। তাদের দাবি, ইসকন কর্তৃপক্ষ ‘অসময়ে’ রথযাত্রা আয়োজন করছে, যা জগন্নাথ সংস্কৃতির পরিপন্থী।

কেন এই বিবাদ?

পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব বিশ্বের সমস্ত ইসকন মন্দিরগুলিকে একই তিথি ও সময়সূচি মেনে রথযাত্রা পালনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কলিঙ্গ সেনার অভিযোগ, ইসকন কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ বা আবেদনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী উৎসবের আয়োজন করেছে। শুক্রবার ভুবনেশ্বরে ইসকন মন্দিরের সামনে এই নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভও দেখান সংগঠনের কর্মীরা।

কলিঙ্গ সেনার কড়া হুঁশিয়ারি:

সংগঠনের সভাপতি হেমন্ত রথ সংবাদমাধ্যমের সামনে ইসকনকে একহাত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:

  • পুরীতে প্রবেশ নিষেধ: আগামী ১৬ জুলাই পুরীতে রথযাত্রার সময় ইসকনের কোনো ভক্তকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

  • কার্যক্রম বন্ধের দাবি: ইসকন যদি এই ‘বিতর্কিত’ সময়সূচি মেনে চলা বন্ধ না করে, তবে রাজ্যজুড়ে তাদের সমস্ত কার্যক্রম ব্যাহত করা হবে।

  • গণ-আন্দোলন: সংগঠনের তরফে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ইসকনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসকনের অবস্থান:

অন্যদিকে, ভুবনেশ্বরের ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কয়েক দশক ধরেই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনেই উৎসব পালন করে আসছে। তবে বর্তমান এই বিরোধ রথযাত্রার নির্ধারিত তিথি নিয়ে হওয়ায় পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনের নজরে পরিস্থিতি: ১৬ জুলাই পুরীর মূল রথযাত্রাকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অশান্তি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বিবাদ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ওড়িশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *