অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! দেশের সব রাজ্যের রাজধানীতে তৈরি হবে FRRO অফিস

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আগামী বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীতে ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ বা এফআরআরও (FRRO) খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই এফআরআরও (FRRO) এত গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের ডিপোর্টেশনের (প্রত্যাবাসন) মূল কাজটি করে এই এফআরআরও। এতদিন এই অফিস মাত্র ১২টি জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় পুলিশ সুপারদের (SP) এই দায়িত্ব পালন করতে হতো। এখন প্রতিটি রাজ্যে এই পূর্ণাঙ্গ অফিস গড়ে উঠলে অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য যাচাই, নজরদারি এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

পরিকাঠামো ও অমিত শাহের বৈঠক:
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ইমিগ্রেশন পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই তিনি এফআরআরও নেটওয়ার্ক রাজ্যস্তরে সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।

সীমান্ত সুরক্ষা ও জনবিন্যাস নিয়ে কড়া নজর:
শুধু এফআরআরও অফিস নয়, বাংলাদেশ সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও তৎপর কেন্দ্র। বিশেষ করে:

জনবিন্যাসের পরিবর্তন: সীমান্তে অনুপ্রবেশের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের ওপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক গভীর নজর রাখছে।

রিপোর্ট তলব: পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পুলিশ সুপারদের (SP) থেকে সীমান্ত বেড়া (fencing) এবং অনুপ্রবেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

কেন এই পদক্ষেপ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং দেশজুড়ে বিদেশি নাগরিকদের সঠিক রেজিস্ট্রেশন ও গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি ছিল। নতুন এই উদ্যোগের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুপ্রবেশ-বিরোধী নীতিগুলো অনেক বেশি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *