সাঁতরে আসুন বা উড়েই আসুন! অফিসে আসতেই হবে! পুনের বসের অমানবিক নির্দেশে ক্ষোভে ফুঁসছে নেটপাড়া

কর্পোরেট জগতের রূঢ় বাস্তবতাকে যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এল এক ভাইরাল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট। পুনেতে যখন প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত, রাস্তাঘাট পানির নিচে, ঠিক তখন এক কর্মীর অফিসের হাজিরা নিয়ে বসের তোলা কঠোর দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মানবিকতার চেয়ে অফিসের কাজকেই যে এই বস বড় করে দেখছেন, তা স্পষ্ট এই কথোপকথনে।
কী ঘটেছিল সেই চ্যাটে?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রেডিটে (Reddit) শেয়ার করা এই কথোপকথন অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় ওই কর্মচারী সকালে তাঁর বসকে মেসেজ করে অফিসে আসতে না পারার অক্ষমতা জানান। কিন্তু বস বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা না দেখিয়ে উল্টে কর্মীকে কঠোর নির্দেশ দেন, “গণপরিবহন ব্যবহার করুন বা উবার ক্যাব ভাড়া করুন, কিন্তু যেকোনো মূল্যে অফিসে পৌঁছান।”
বস স্পষ্ট ভাষায় লিখে দেন, “আমি এই ছুটি মঞ্জুর করতে পারি না। আমরা সবাই কাজে এসেছি। রিকশা হোক বা ট্রেন—তোমাকে আসতেই হবে।” বসের এমন অমানবিক উত্তরে কর্মচারীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং বন্ধু মহলে জানিয়েছেন যে তিনি এখন চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ:
স্ক্রিনশটটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা ম্যানেজমেন্টের প্রতি চরম বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারী কমেন্ট করেছেন, “দয়া করে কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করুন, যাতে সবাই জানতে পারে তারা কর্মীদের জীবনের মূল্য কতটা দেয়।” আরেকজন নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে লিখেছেন, কীভাবে ইন্টার্নশিপের সময় সামান্য বেতনেও বস একইভাবে অফিস আসার জন্য চাপ দিতেন।
কর্পোরেট সংস্কৃতি কি অমানবিক হয়ে উঠছে?
পুনের মতো বন্যাদুর্গত অবস্থায় যেখানে প্রশাসন সবাইকে নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে, সেখানে একজন ম্যানেজারের এমন জেদি মনোভাব কর্পোরেট জগতের অমানবিক দিকটিকেই তুলে ধরেছে। কাজের চেয়ে কর্মীদের নিরাপত্তার গুরুত্ব যে অনেক বেশি, সেই বোধটি অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন সমাজতাত্ত্বিকরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার নিন্দা বাড়ছেই, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, “শুধুমাত্র একটি অফিসের হাজিরা কি একজন মানুষের জীবনের চেয়েও বড়?”