প্রেগন্যান্সিতে কি সত্যিই নিষিদ্ধ আনারস? গর্ভপাত নিয়ে প্রচলিত মিথ ভাঙলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

গর্ভাবস্থায় হবু মায়েদের ডায়েট চার্ট নিয়ে পরিবারের চিন্তার অন্ত থাকে না। এই তালিকায় সবচেয়ে বিতর্কিত ফলটি হলো—আনারস। যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে যে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আনারস খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এই ধারণা কি আদৌ বৈজ্ঞানিক সত্য, নাকি স্রেফ কুসংস্কার? এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট ও কনসালট্যান্ট ডক্টর সোনালী বিশ্বাস।
আনারস কি গর্ভপাত ঘটাতে পারে?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর অর্পণ সাহার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক আলোচনায় ডক্টর সোনালী বিশ্বাস সরাসরি জানিয়েছেন, “আনারস কোনো গর্ভপাত করানোর ওষুধ নয়।” চিকিৎসকের মতে, বাজারে সচরাচর আমরা যে মিষ্টি আনারস কিনে খাই, তার সঙ্গে গর্ভপাত ঘটানোর কোনো সম্পর্কই নেই। তিনি মজার ছলে বলেন, “যদি আনারস খেলেই গর্ভপাত হতো, তবে ওষুধের প্রয়োজন হতো না। সামান্য আনারস খেয়ে কি আর গর্ভাবস্থা শেষ করা সম্ভব?”
ভয়ের উৎস কোথায়?
তাহলে কেন এই ভয়ের সৃষ্টি? চিকিৎসকের ব্যাখ্যা, কিছু বিশেষ প্রজাতির ‘বুনো’ আনারসে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে যা গর্ভাবস্থার জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু আমরা ভারতে যে পাকা ও মিষ্টি আনারস খাই, তাতে ভয়ের কোনো কারণই নেই। ফলে সাধারণ বাজারে পাওয়া আনারস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
ডক্টর সোনালী বিশ্বাসের মতে:
পুষ্টিগুণ: প্রতিদিন এক বা দুই টুকরো সিজনাল আনারস খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না, বরং এতে থাকা ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ হবু মা ও শিশুর জন্য উপকারী।
মানসিক শান্তি: যদি কোনো হবু মায়ের মনে এই ফলটি নিয়ে তীব্র ভয় বা খুঁতখুঁতুনি কাজ করে, তবে মানসিক শান্তির জন্য তিনি তা এড়িয়ে চলতে পারেন। এটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
সতর্কতা: গর্ভাবস্থায় যে কোনো নতুন খাবার শুরু করার আগে নিজের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সারসংক্ষেপে, বিজ্ঞান বলছে সাধারণ পরিমাণে আনারস খাওয়া পুরোপুরি নিরাপদ। অযথা কুসংস্কারের বশবর্তী না হয়ে পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসকের নির্দেশ মেনেই প্রেগন্যান্সির দিনগুলো কাটানো উচিত।