মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধ! ইরানের ৯০টি ঘাঁটিতে আমেরিকার হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পরপরই ইরানে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। মুহূর্মুহু মিসাইল হামলায় কেঁপে উঠেছে বন্দর আব্বাসসহ ইরানের একাধিক শহর। পালটা জবাব দিতে গিয়ে কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়েছে ইরান।

ইরানের ৯০টি নিশানায় মার্কিন আঘাত: বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ৯০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বুশেহরের পরমাণু কেন্দ্র, চাবাহার, কোনারাক, সিরিক এবং ইরানশাহরের বিমানঘাঁটি। সেন্টকম প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ইরানের বিমানবন্দর ও মিসাইল লঞ্চ প্যাড ধ্বংসের চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র আক্রমণ করেছেন তেহরানকে। তিনি বলেন, “আমি এদের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাই না। এরা জঘন্য মানুষ এবং এদের নেতৃত্বেও রয়েছে জঘন্য ব্যক্তিরা।” ট্রাম্পের দাবি, ইরানের ওপর ওয়াশিংটন ২০ গুণ শক্তিশালী আঘাত হেনেছে এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাণিজ্যিক জাহাজেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে।

পালটা পথে তেহরান: এদিকে, প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার খামেনেইয়ের শেষকৃত্য চলাকালীন এই হামলায় ইরান যে ছেড়ে কথা বলবে না, তা স্পষ্ট। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, বৃহস্পতিবারই বাহরিনে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এর সদর দফতর এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলায় মার্কিন সদর দফতরে আগুন লেগেছে। পালটা কুয়েতের সেনাও জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।

বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের বাতাবরণ: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের আবহে আমেরিকার এই বড়সড় সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, মার্কিন হামলার উপযুক্ত এবং ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে। একদিকে আমেরিকার সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং অন্যদিকে ইরানের পালটা হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব। এই সংঘাত কি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেবে? নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার অবকাশ এখনও আছে? উত্তরের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *