হরমুজ সংকটে কার কপাল পুড়বে? কোন দেশগুলোর অর্থনীতি এক ধাক্কায় তলিয়ে যেতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আবারো সংবাদের শিরোনামে। এই গুরুত্বপূর্ণ পথটিতে নৌচলাচল ব্যাহত হলে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হবে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে কোন দেশগুলো?

বিপজ্জনক অর্থনীতির অঙ্ক অনেকেই মনে করেন, হরমুজ বন্ধ হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে ইরান। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। কেপলারের জুন মাসের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রণালী দিয়ে সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ফলে এই পথ বন্ধ হলে সবচেয়ে আগে এই দুটি দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং শত শত কোটি ডলারের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে তারা।

কে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? (দৈনিক রপ্তানির পরিসংখ্যান) হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতার খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো:

  • সৌদি আরব: প্রায় ৪৫ লক্ষ ব্যারেল।

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: প্রায় ৩৮ লক্ষ ব্যারেল।

  • ইরান: প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল।

  • কুয়েত ও ইরাক: প্রত্যেকে প্রায় ৫ লক্ষ ব্যারেল।

বিশ্বের ওপর এর প্রভাব কী? হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম তেল পরিবহনের রুট। যদি এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় বা কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, তবে তার প্রভাব পড়বে প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে। ১. জ্বালানি তেলের দাম: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২. সরবরাহ শৃঙ্খল: এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে তেল পৌঁছানো বন্ধ বা ধীরগতির হয়ে যাবে। ৩. ভোক্তার ওপর চাপ: পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে, যার চূড়ান্ত ভার বইতে হবে সাধারণ ভোক্তাকে।

বর্তমানে এই সমুদ্রপথকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উত্তেজনা প্রশমন না হলে বিশ্ব অর্থনীতি যে এক বড় সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *