মালাক্কা প্রণালীতে চীনের টুঁটি টিপে ধরল ভারত! সাবাং বন্দর নিয়ে বড় বিপাকে বেজিং

ভারত মহাসাগরের কৌশলগত মোড়ে ভারতের আধিপত্য নিয়ে চরম অস্বস্তিতে বেজিং। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সাবাং বন্দর নিয়ে ভারতের নতুন কৌশলগত সমঝোতা চীনকে এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক চাপে ফেলে দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে মালাক্কা প্রণালীর মুখে ভারত এমন এক ‘চোকপয়েন্ট’ তৈরি করেছে, যা চীনের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১০০ মাইলের ‘অভেদ্য নিরাপত্তা প্রাচীর’ ভারতের আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ থেকে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরের দূরত্ব মাত্র ১০০ মাইল (প্রায় ১৬০ কিমি)। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া মিলে মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশপথে এক শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে। এখন থেকে সাবাং বন্দরে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজগুলো সরাসরি রসদ সংগ্রহ, জ্বালানি ও মেরামতের সুবিধা পাবে। এর ফলে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি চীনা যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের ওপর ভারতের নজরদারি থাকবে সার্বক্ষণিক।
চীনের ‘লাইফলাইন’-এ ভারতের নিয়ন্ত্রণ চীন তার চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে এই মালাক্কা প্রণালী দিয়েই। বেজিং বরাবরই এই পথকে তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে মনে করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই ‘আন্দামান-সাবং অক্ষ’ চীনের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান লাইফলাইন। যদি সীমান্তে চীন কোনো আগ্রাসন দেখায়, তবে ভারত এই পথ দিয়েই চীনের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ব্রহ্মোস মিসাইলে আতঙ্ক শুধু নৌ-নজরদারি নয়, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের ব্রহ্মোস ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি চীনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া এখন ভারতের অত্যাধুনিক প্রাণঘাতী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। এর ফলে মালাক্কা প্রণালীতে চীনের যেকোনো আগ্রাসী নৌ-পদক্ষেপ প্রতিহত করতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এখন যৌথভাবে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।
কেন এটি চীনের মাথাব্যথার কারণ?
-
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিকল্প তেলের মজুদ সীমিত হওয়ায় মালাক্কা পথ বন্ধ হলে চীনের অর্থনীতি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
-
সরাসরি নজরদারি: ভারতীয় নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে কোনো অঘোষিত চীনা পদক্ষেপ ছাড়বে না।
-
কৌশলগত ভারসাম্য: ভারত মহাসাগরে চীনের একতরফা আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্নের পথে এটি একটি স্থায়ী কাঁটা।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই নয়া সমীকরণ প্রমাণ করে যে, সমুদ্রে ভারতের কৌশলগত সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে মিলে ভারত এখন দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের প্রভাবকে আরও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর।