পুরোনো গাড়িতে ই-২০ পেট্রোল কতটা নিরাপদ? ২৯টি কোম্পানিকে কড়া চিঠি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

পুরোনো গাড়িতে ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ২৯টি গাড়ি নির্মাতা সংস্থাকে চিঠি লিখে কড়া প্রশ্ন তুললেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানতে চেয়েছেন, কোম্পানিগুলো যে দাবি করছে পুরোনো গাড়িতে ই-২০ নিরাপদ, তার স্বপক্ষে তারা কি লিখিত নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত?

কেন এই চিঠি? গত ৪ঠা জুলাই একটি সরকারি সংবাদ সম্মেলনে মারুতি, টয়োটা কির্লোস্কর এবং হিরো দাবি করেছিল যে, পুরোনো গাড়িতে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার করা নিরাপদ এবং এতে মাইলেজ মাত্র ৪-৫ শতাংশ কমতে পারে। অথচ, এই সংস্থাগুলির নিজস্ব ওনার্স ম্যানুয়ালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি গাড়িগুলিতে ১০ শতাংশের বেশি ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকারি দাবি এবং ম্যানুয়ালের এই বৈপরীত্য নিয়েই সরব হয়েছেন কেজরিওয়াল।

কেজরিওয়ালের মূল প্রশ্নসমূহ: অরবিন্দ কেজরিওয়াল সংস্থাগুলোর কাছে তিনটি প্রধান প্রশ্ন রেখেছেন:

  • নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: কোম্পানিগুলো কি লিখিতভাবে জাতিকে জানাতে পারবে যে পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য ই-২০ সত্যিই নিরাপদ?

  • ক্ষতিপূরণ: ই-২০ ব্যবহারের ফলে যদি কোনো গ্রাহকের গাড়ির মাইলেজ ৫-১০ শতাংশের বেশি কমে যায় বা ইঞ্জিনের কোনো যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার দায়ভার কে নেবে? কোম্পানিগুলো কি সেই ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি?

  • ম্যানুয়ালের সাথে অসামঞ্জস্য: ম্যানুয়ালে থাকা সতর্কবার্তা এবং সরকারি মঞ্চে করা দাবির মধ্যে কেন এত অমিল?

পরবর্তী পদক্ষেপ: কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তিনি এই তিনটি সংস্থাকে পৃথকভাবে এবং অন্য ২৬টি কোম্পানিকে একটি সাধারণ চিঠি পাঠিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের থেকে স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন তিনি। এছাড়া, ই-২০ ব্যবহারের বিষয়ে সাধারণ মানুষের প্রকৃত অভিজ্ঞতা জানার জন্য তিনি পেট্রোল পাম্প, সার্ভিস সেন্টার এবং মেকানিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।

সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের ঝুঁকি ও বাস্তবতা নিয়ে এখন কোম্পানিগুলো কী জবাব দেয়, সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *