সোনা ও রুপো ক্রেতাদের জন্য বড় সুখবর! একদিনে ৬,৭০০ টাকা কমল রুপোর দাম, সোনাতেও বিরাট পতন

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণে সোনা এবং রুপোর দামে বড়সড় ধস নামল। ৮ই জুলাই, বুধবার ভারতের পণ্য বিনিময় কেন্দ্রে (MCX) মূল্যবান ধাতু দুটির দামে তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। গত তিন দিন ধরে লাগাতার কমছে সোনার দাম, অন্যদিকে রুপোর দামে রেকর্ড পতন ঘটেছে।

দামের চিত্র:

  • সোনা: এমসিএক্স ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম ১.১৬ শতাংশ কমে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬৯২ টাকা হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৪৩,৭১০ টাকা।

  • রুপো: রুপোর দামে এদিন কার্যত ধস নেমেছে। ২.৯৩ শতাংশ বা প্রায় ৬,৭৬৩ টাকা কমে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,২৪,২০১ টাকা।

কেন এই দরপতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ রয়েছে: ১. মার্কিন-ইরান উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ২. অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি: যুদ্ধের আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৩. শক্তিশালী ডলার: মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে, যার ফলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার চাহিদা ও ঔজ্জ্বল্য কমে যায়।

হরমুজ প্রণালী ও ভয়ের বাতাবরণ: বিশেষজ্ঞ গৌরব গর্গ জানিয়েছেন, তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম চড়া। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই সোনা ও রুপোর দাম কমার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: সোনা ও রুপোর দামে এই সাময়িক পতন চললেও, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপকহারে সোনা কেনার প্রবণতা থাকায় দাম খুব বেশি তলানিতে নামার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তানজানিয়াসহ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনায় বিপুল বিনিয়োগ করছে, যা সোনার দামকে একটি নির্দিষ্ট স্তরে ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *