যন্তর মন্তরে পুলিশের বর্বরতা নিয়ে ফুঁসছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা! শাহকে করা রাহুলের প্রশ্নগুলো কী?

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিট (NEET) ও পরীক্ষা সংক্রান্ত আন্দোলন আপাতভাবে স্তিমিত হলেও রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ কমেনি। এবার যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন, বলপ্রয়োগ এবং পেলেট গান ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি কড়া চিঠি লিখলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

চিঠিতে কী অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী?

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা সেই চিঠিটি শেয়ার করেছেন রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি গত ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের অতি-সক্রিয়তা ও চরম সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

রাহুলের অভিযোগ, দেশের একটি সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। কিন্তু তাদের কথা শোনার বদলে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করেছে। আন্দোলন দমাতে কাঁদানে গ্যাস এবং পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে শত শত শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। এমনকি পুলিশি অভিযানে নারী শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে এবং অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে যে দুটি প্রধান প্রশ্ন করেছেন রাহুল:

১. দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পেলেট গানের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের কোনো অনুমোদন দিয়েছিলেন? যদি আপনি না দিয়ে থাকেন, তবে এই নির্দেশ ঠিক কার কাছ থেকে এসেছিল? ২. প্রতিবাদী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর লাঠিচার্জ করতে যাঁদের দেখা গেছে, সেই সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা আসলে কারা—তারা কি ছাত্র, নাকি পুলিশ? তাদের মাঠে মোতায়েন করার নির্দেশই বা কে দিয়েছিল?

পেলেট গানে অন্ধত্বের ঝুঁকি ও জবাবদিহিতা

চিঠিতে সাহিল নামের ১৯ বছর বয়সী এক আহত ছাত্রের মর্মান্তিক উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, পেলেট গানের স্প্রিন্ট বা গুলির আঘাতে ওই যুবকের একটি চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসা সেই সমস্ত রক্তাক্ত ছবি ও ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে এবং নাগরিকদের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব।

সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধী লিখেছেন যে, দিল্লিতে মোতায়েন সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই কাজ করে। তাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চালানো এই বর্বর সহিংসতার সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা সরকারকে নিতেই হবে এবং দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *