“এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি!” বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সাথে সাক্ষাতে আবেগপ্রবণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বারুইপুরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে সরাসরি এসপি অফিসে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুধু নির্যাতিতা নয়, গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। পরিবারগুলির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের আস্থাকেই নিজের “সবথেকে বড় প্রাপ্তি” বলে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP)-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রশাসনিক গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না, এমন বার্তাই যেন উঠে এল তাঁর নির্দেশে।

কী কী প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন:

  • আউটপোস্ট স্থাপন: অপরাধ দমনে এলাকাটিতে নতুন একটি পুলিশ আউটপোস্ট তৈরি করা হবে।

  • সহায়তার আশ্বাস: দুই পরিবারই যে দাবি জানিয়েছে, সরকার তা পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • ফের পরিদর্শন: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ফের বারুইপুরে আসবেন। সেই সময়ের মধ্যে সরকার কতটা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করেছে, তা মানুষ নিজ চোখে দেখতে পাবেন।

রাজনৈতিক বার্তা: এদিন বিরোধীদের বিঁধতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশবিরোধী শক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হবে।” অতীতের সরকারগুলোর দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এর আগে কোনও পুলিশমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী নিপীড়িত পরিবারের কথা শোনেননি। আগে কেউ করেনি বলে আমি করব না, সেটা আমার দর্শন নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য।”

বারুইপুর কাণ্ড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *