বারুইপুরে আজ মুখ্যমন্ত্রী, দোষীদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার সায়নী-নওশাদরা

বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আজ, মঙ্গলবার বারুইপুর পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুপুরে তিনি বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের অফিসে পৌঁছবেন, সেখানেই নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে প্রশাসনিক দৌড়ঝাঁপ মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই ঘটনার তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড় ও উত্তাপ ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছেছে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দল:
-
তৃণমূল কংগ্রেস: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং সায়নী ঘোষের মতো নেতারা নির্যাতিতার বাড়িতে যান। সায়নী ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা মৃত্যুদণ্ড (ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট) চাইছি।” যদিও পৌঁছানোমাত্রই কিছু জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল প্রতিনিধিদলকে।
-
বিজেপি: রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির মহিলা প্রতিনিধি দল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, একজন মেয়ের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিচার হওয়া জরুরি।”
-
আইএসএফ: মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও।
দোষীদের শাস্তির দাবিই মূল সুর রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে প্রায় সব পক্ষই অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে একমত। গণপিটুনি ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল, তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আজকের সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক এই চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তদন্তকারী দল (SIT) কতটা দ্রুত অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।