১৮ মাসের বকেয়া ডিএ কি পাবেন? জুলাইয়ের ডিএ বৃদ্ধির আগেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের মনে বড় সংশয়!

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে করোনা অতিমারী চলাকালীন সেই ১৮ মাসের বকেয়া ডিএ-র দাবি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন থাকলেও, কেন্দ্র সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছে যে সেই বকেয়া পাওনা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এখন সমস্ত দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে চলতি বছরের জুলাই মাসের ডিএ ঘোষণার দিকে।
জুলাইয়ের ডিএ ও সংশয়:
সাধারণত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বছরে দু’বার ডিএ বৃদ্ধি করা হয়—জানুয়ারি এবং জুলাই মাসে। এপ্রিল মাসের বেতনের সঙ্গেই বছরের প্রথম দফার বর্ধিত ডিএ (২ শতাংশ) যুক্ত হয়ে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে। এখন জুলাই মাসের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারী। তবে নিয়ম অনুযায়ী, ডিএ ঘোষণা হলেও তা হাতে পেতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশন ও ডিএ-র ভবিষ্যৎ:
ওয়াকিবহাল মহলের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন কর্মীরা। ফলে জুলাই মাসে যে ডিএ ঘোষণা হবে, তা সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়মেই হবে। আগামী বছর অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, জুলাইয়ের ডিএ-র সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে অষ্টম বেতন কমিশন পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। সেই সময় থেকে ডিএ-র হিসাব আবার ‘শূন্য’ থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বেতন কাঠামো চালুর ৬ মাস পর থেকেই সরকার ডিএ ঘোষণা শুরু করবে।
ডিএ বৃদ্ধির ভিত্তি কী?
মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হয় মূলত সর্বশেষ ভোক্তামূল্য সূচক বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI-IW)-এর ওপর ভিত্তি করে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই সূচক ছিল ১৪৯.৯। সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখেই কেন্দ্র সরকার জুলাই মাসে ডিএ বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ঠিক কতটা শতাংশ ডিএ বাড়বে, তা নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি।
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, জুলাইয়ের ডিএ ঘোষণা সরকারি কর্মীদের সেই কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি দিতে পারে কি না।