ভারতীয় বাজারে কি ফিরছে বিদেশি লগ্নিকারীরা? জুন মাসে ফাইনান্সিয়াল সেক্টরে রেকর্ড বিনিয়োগ!

টানা তিন মাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ পুঁজি প্রত্যাহারের পর, জুন মাসের দ্বিতীয় ভাগে অবশেষে স্বস্তির খবর নিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারে ফিরেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FII)। বিশেষ করে দেশের ব্যাংকিং ও ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরে তারা আবারও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করেছেন। এনএসডিএল (NSDL)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের ১৬ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে বিদেশি লগ্নিকারীরা ১৪,৬৩৪ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন।
কেন এই পরিবর্তন?
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথমার্ধে যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১১,২৬৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছিলেন, সেখানে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের এই উল্টো পথচলা রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারণ দুটি:
গ্লোবাল ইক্যুইটি ইনডেক্স রিব্যালেন্সিং: এফটিএসই (FTSE) জুন ২০২৬ রিভিউ-এর ফলে বিদেশি ফান্ডগুলো ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
ভ্যালু বাইং: ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরের শেয়ারগুলোর দাম আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে আসায় লং-টার্ম বিনিয়োগকারীরা আবারও এই সেক্টরে ভরসা রাখছেন।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
আইআইএফএল ক্যাপিটাল সার্ভিসেস-এর সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট श्रीराम वेलयुधन-এর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামায় বাজারের ‘রিস্ক-অফ’ মনোভাব কমেছে। অন্যদিকে, ওমনিসায়েন্স ক্যাপিটালের সিইও বিকাশ গুপ্তা জানিয়েছেন, নিফটি ইনডেক্সের প্রায় ৪০% যেহেতু ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সেক্টরের দখলে, তাই এই সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়া মানেই সামগ্রিক বাজারে উন্নতির ইঙ্গিত।
কোন সেক্টরে কত বিনিয়োগ?
জুন মাসের দ্বিতীয় ভাগের তথ্য অনুযায়ী—
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস: ১৪,৬৩৪ কোটি টাকা (নেট ইনফ্লো)।
কনস্ট্রাকশন: ৩,৪৮৪ কোটি টাকা।
সার্ভিসেস: ২,৫৯২ কোটি টাকা।
কনজিউমার ডিউরেবলস: ২,৫৬৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, অটোমোবাইল, ক্যাপিটাল গুডস, তেল ও গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং মেটাল সেক্টর থেকে এখনও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন। আইটি (IT) শেয়ার থেকে টাকা তোলার গতি কিছুটা কমলেও, সেখানে এখনও বিক্রির চাপ বজায় রয়েছে।
আগামীর সম্ভাবনা:
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস সেক্টরটি অত্যন্ত লিকুইড এবং গ্রোথ-পটেনশিয়াল সম্পন্ন হওয়ায় আগামী দিনে লং-টার্ম বিনিয়োগকারীদের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। দীর্ঘ বিরতির পর বিদেশি লগ্নিকারীদের এই প্রত্যাবর্তন কি জুলাই মাসেও অব্যাহত থাকবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।