ইন্দোনেশিয়ায় ভারতের জয়জয়কার! ব্রহ্মোস মিসাইল থেকে ইউপিআই—কী কী পেল ভারত?

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হলো। ইন্দোনেশিয়ার মাটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক—উভয় দিক থেকেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও শিক্ষাসহ ৮টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সফরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল ইন্দোনেশিয়া সরকারের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা’।
সফরের মূল ৫টি বিশেষ দিক:
প্রতিরক্ষায় ইতিহাস: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চূড়ান্ত হয়েছে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি। ভারত ডায়নামিক্সের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ব্রহ্মোস ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহ করা হবে। এটি ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
বৈশ্বিক ইউপিআই: ভারতীয় ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থার সাথে ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেম সংযুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন এখন আরও সহজ ও ঝঞ্ঝাটমুক্ত হবে।
সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য: দারিদ্র্য বিমোচনে ভারতের সফল মডেল ‘গণবন্টন ব্যবস্থা’ (PDS) ও মিড-ডে মিল প্রকল্প ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নেবে ভারত। পাশাপাশি, ভারতের উন্নত মানের সাশ্রয়ী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ইন্দোনেশিয়ায় সহজলভ্য হবে এবং সে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবে ভারত।
সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন: ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স ‘প্রাম্বানান’ সংস্কারে ভারত প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক মৈত্রী আরও দৃঢ় করবে।
খনিজ ও সরবরাহ শৃঙ্খল: ইস্পাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই রাষ্ট্রপ্রধান সহমত পোষণ করেছেন, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চাহিদাকে মাথায় রেখে করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, টেলিযোগাযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং কৌশলগতভাবে একে অপরের পরিপূরক করে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর প্রমাণ করল যে, বিশ্বের দরবারে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি এবং সামাজিক উদ্যোগগুলো এখন মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ইন্দোনেশীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন এই সফরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।