গ্রামে এবার করের বোঝা? ১২০০ টাকা বার্ষিক কর আদায়ের প্রস্তাব ঘিরে তোলপাড়!

গ্রামের মানুষের ওপর কি এবার বসতে চলেছে করের বোঝা? সম্প্রতি কেন্দ্রের প্রস্তাবিত একটি নীতি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পঞ্চায়েতি রাজ বিভাগের সুপারিশ অনুযায়ী, পৌরসভার আদলে এবার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও কর আদায়ের ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্র। বিহারকে দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য।

কেন এই নতুন করের প্রস্তাব?
কেন্দ্রের যুক্তি অনুযায়ী, শহর ও গ্রামের সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান কমাতে পঞ্চায়েতগুলোকে স্বনির্ভর করে তোলা প্রয়োজন। ১৬তম কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, পঞ্চায়েতগুলোর নিজস্ব আয় বাড়লে কেন্দ্রীয় অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। এই কর বাবদ সংগৃহীত টাকা মূলত গ্রামের রাস্তাঘাট, স্ট্রিট লাইট, পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতার মতো পরিকাঠামো উন্নয়নে খরচ করা হবে।

কীভাবে ধার্য হবে কর?
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

বার্ষিক লক্ষ্য: বাড়ি পিছু বছরে প্রায় ১২০০ টাকা কর আদায়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

ভিন্ন ভিন্ন হার: সব বাড়ির ওপর করের হার সমান হবে না। বসত বাড়ির তুলনায় দোকান, বাজার বা বাণিজ্যিক ভবনগুলির ওপর করের হার বেশি হবে।

অবস্থানগত গুরুত্ব: পাড়ার ভেতরের বাড়ির তুলনায় রাস্তার ধারের দোকান বা বাজারের ওপর করের পরিমাণ বেশি ধার্য করা হতে পারে।

বিহারের তীব্র আপত্তি ও বিকল্প ভাবনা
কেন্দ্রের এই প্রস্তাবে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছে বিহার। বিহারের পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রী দীপক প্রকাশ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানো বিহারের মতো রাজ্যে একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়। বরং, তাঁরা বিকল্প হিসেবে পঞ্চায়েতের অব্যবহৃত সরকারি জমিতে পুকুর খনন করে মৎস্যচাষের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পথে হাঁটতে চান। বিহারের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্যগুলোও।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
বিহারের আপত্তির পর এখন বড় প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্র কি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে? নাকি অন্য রাজ্যগুলোতেও এই নীতি কার্যকর করার আগে নতুন করে কোনো ভাবনাচিন্তা করা হবে? পঞ্চায়েতগুলিকে স্বনির্ভর করার এই প্রক্রিয়া কি সফল হবে, নাকি তা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করবে—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজনৈতিক মহল ও গ্রামবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *