হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট ইন্টারনেটে! গ্রেফতারি এড়াতে কী কী সার্চ করেছিলেন কেতনের খুনিরা?

রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল দেশ। পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে খুনের ঘটনায় উঠে এল এক ভয়াবহ তথ্য—অভিযুক্তরা নাকি আগের একটি হাই-প্রোফাইল খুনের কেস স্টাডি করে নিজেদের খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল!
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে খুনের ছক!
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মেঘালয়ের রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের খুঁটিনাটি ইন্টারনেটে পড়েছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, আগের মামলার ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। লোহাগড় দুর্গের একটি বিপজ্জনক পাহাড়ি খাদ থেকে কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়, যাতে ঘটনাটি ‘দুর্ঘটনা’ বলে মনে হয়।
তদন্তে উঠে এল যা:
অ্যালিবাই তৈরির চেষ্টা: সিয়া এমনভাবে পরিস্থিতি সাজিয়েছিলেন যাতে পুলিশের কাছে এটি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।
মোবাইল ব্রাউজিং হিস্ট্রি: ধৃতদের ফোন থেকে জানা গিয়েছে, সিয়া ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখেছিলেন পুলিশি হেফাজতে মহিলা বন্দিদের আইনি অধিকার এবং আগের খুনের মামলার বিস্তারিত খবর। অর্থাৎ, অপরাধের পর সম্ভাব্য পরিণতি সামলানোর প্রস্তুতিও ছিল আগেভাগে।
যুগলবন্দি: পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া একা নন, কেতনকে খাদে ফেলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রেমিক চেতনও। লোহাগড়ের ওই জায়গাটি ট্রেকিংয়ের জন্য খুব একটা বিপজ্জনক ছিল না, যা প্রথম থেকেই পুলিশের সন্দেহ বাড়িয়েছিল।
পারিবারিক চাপ ও অপরাধ:
তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক চাপ ও বিয়ের হাত থেকে মুক্তি পেতেই সিয়া এই চরম পথ বেছে নেন। এটি কেবল প্রেমের জটিলতা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অভিযুক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনার লক্ষণ মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।
উদ্বেগে রঘুবংশী পরিবার:
এদিকে রাজা রঘুবংশীর মা উমা রঘুবংশী এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই মামলার মধ্যে ভয়াবহ মিল রয়েছে এবং অপরাধীদের জামিন পাওয়ার বিষয়টি সমাজের জন্য ভুল বার্তা দিচ্ছে।
বর্তমানে সিয়া ও চেতন দুজনেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে। গোয়াল পরিবারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলেই এই পরিকল্পিত খুনের ষড়যন্ত্রের আরও অন্ধকার দিক উন্মোচিত হবে বলে আশা পুলিশের।