হরমুজ প্রণালীতে ফের মিসাইল হামলা! যুদ্ধের দামামা কি বেজে উঠল আবার?

কয়েক দিনের আপেক্ষিক শান্তির পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের বিরুদ্ধে এই জলপথে অগ্রসরমাণ দুটি জাহাজে মিসাইল হামলার অভিযোগ উঠেছে। আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও, এই ঘটনায় ফের নতুন করে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।

চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার মুখে: মাত্র তিন সপ্তাহ আগেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কাতার মধ্যস্থতাকারী এই চুক্তিতে ইরান হরমুজ প্রণালীতে যাবতীয় সামরিক আগ্রাসন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তির কালি শুকানোর আগেই নতুন করে এই মিসাইল হানা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও উত্তজনা: পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর। ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য ইরানকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই ইরান-আমেরিকা সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং হু হু করে বেড়েছে তেলের দাম।

ওমান উপকূলে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ড: এরই মধ্যে মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে একটি জাহাজে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডের খবর মিলেছে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর দাবি, দূর থেকে কোনো অজানা বস্তুর আঘাতে ওই জাহাজে আগুন ধরেছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ভারতের ওপর কি প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেলের লাইফলাইন। এখানে নতুন করে অস্থিরতা মানেই অপরিশোধিত তেলের বাজারে ফের দামের উর্ধ্বগতি। যদিও শান্তি চুক্তির আশায় সম্প্রতি তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ফের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো মূল্যের ওপর। সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা টান পড়বে, তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি: অ্যাক্সিওস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ডিল বা সমঝোতা চাইলেও, যে কোনো মুহূর্তে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত মার্কিন নৌবাহিনী। এখন দেখার বিষয়, কূটনীতি নাকি লড়াই—কোন পথ বেছে নেয় দুই দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *