শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী: ভারতীয় জাদুঘরের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ নিয়ে এল নতুন তথ্য

বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য অবদান সুবিদিত। তবে সোমবার তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানে এমন এক ঐতিহাসিক তথ্য উঠে এল, যা অনেক মানুষের কাছেই অজানা। সোমবার কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে আয়োজিত বিশেষ সভায় মিউজিয়ামের ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য জানালেন, এই সংগ্রহশালার ‘জাতীয় গুরুত্ব’ (National Status) ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে আদায়ের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।
অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট: গত ২৩ জুন থেকে ডঃ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে শুরু হয়েছিল ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। সোমবার ছিল সেই কর্মসূচির শেষ দিন। এই উপলক্ষ্যে কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস, প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী এবং বিশ্বভারতীর প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য: মঞ্চ থেকে ডিরেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার আগে থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভারতীয় জাদুঘরের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে এই জাদুঘরকে ‘জাতীয় গুরুত্ব’-এর প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাইয়ে দিতে ব্রিটিশ সংসদের সঙ্গে লড়াই করে সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই আজ ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ভারতের অন্যতম প্রধান জাতীয় স্থাপত্য হিসেবে টিকে রয়েছে। শিক্ষাবিদ সুরঞ্জন দাসও শ্যামাপ্রসাদের রাজনৈতিক দর্শন ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং আজকের প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ জুড়ে তাঁর মনন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়, যা তাঁর জীবনকাহিনি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের আগ্রহকে উসকে দিয়েছে।