পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক কেলেঙ্কারি: আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত হার নীরব মোদীর, ভারতে প্রত্যর্পণের পথ প্রশস্ত

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB) কেলেঙ্কারির প্রধান অভিযুক্ত, ফেরার হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদীর আইনি লড়াইয়ের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে এল। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর, ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস (ECHR) তাঁর করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের পলাতক নীরব মোদীকে ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল।
মানবাধিকারের দোহাই আর খাটল না: দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে আত্মগোপন করে থাকা নীরব মোদী ভারতে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ভারতে ফিরে গেলে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন না এবং তাঁর মানবাধিকার বিঘ্নিত হতে পারে। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেওয়ায়, নীরব মোদীর শেষ আইনি আশাটুকুও শেষ হয়ে গেল। এখন ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আইনি বাধা আর রইল না।
ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য: ২০১৮ সালে পিএনবি থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই দেশ ছেড়ে পালান নীরব মোদী। তখন থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তাঁকে দেশে ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইন বিভাগের জোরালো লড়াইয়ের এই জয়কে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কী বলছেন সংশ্লিষ্ট মহল? সরকারি সূত্রে খবর, এটি কেবল একজন অভিযুক্তকে ফিরিয়ে আনা নয়, বরং দেশের আর্থিক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। পিএনবি কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ সাধারণ আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছে এই রায় কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের (Fugitive Economic Offenders) বিরুদ্ধে ভারতের এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলছে। নীরব মোদীর প্রত্যর্পণ হলে পিএনবি জালিয়াতি মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এখন কেবল ব্রিটেনের কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত পদক্ষেপের অপেক্ষায় ভারত।