প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপ! এবার কি এনটিএ-র প্রশ্ন বানাবেন সরকারি বিশেষজ্ঞরা?

দেশজুড়ে নিট (NEET UG) পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা চিরতরে রোধ করতে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. কে রাধাকৃষ্ণন কমিটির ১০১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে। এর জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবং সামগ্রিক প্রবেশিকা পরীক্ষার নিয়মে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ ও NTA-তে বড় ছাঁটাই

সম্প্রতি নিট কেলেঙ্কারির জেরে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পরীক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গঠিত ৬ সদস্যের টাস্ক ফোর্সের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই NTA-র ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সংস্থার অন্দরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রশ্নপত্র তৈরিতে দায়িত্ব পাবেন সরকারি বিশেষজ্ঞরা

অতীতে NTA-র পক্ষ থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির কাজ আউটসোর্স করা হতো। আর এই আউটসোর্সিং ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই অতীতে একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল এবং সেই অভিযোগে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছিল। এই ত্রুটি দূর করতে এবার থেকে প্রশ্নপত্র তৈরির একচ্ছত্র দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সরকারি বিশেষজ্ঞদের

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র তৈরিতে সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, ১৩টি আঞ্চলিক ভাষায় নিখুঁত প্রশ্নপত্র অনুবাদের জন্য বিশেষ অনুবাদকও নিয়োগ করবে NTA। এর ফলে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

JEE-এর আদলে বছরে দুবার NEET ও সীমিত সুযোগের ভাবনা

পরীক্ষা পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর অনুযায়ী:

  • বছরে দুবার পরীক্ষা: জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বা JEE-এর মতো ভবিষ্যতে NEET UG পরীক্ষাও বছরে দুবার আয়োজন করার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • সিবিটি (CBT) পদ্ধতি: আগামী দিনে পেপার-পেনের পরিবর্তে কম্পিউটার বেসড টেস্ট (CBT) মোডে নিট পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে, যা একটানা ৫ থেকে ৬ দিন ধরে চলতে পারে।

  • সীমিত সুযোগ: পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার বসার সুযোগ নির্দিষ্ট করে দেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে, যাতে একজন প্রার্থী তাঁর কেরিয়ারে কেবল ৩ থেকে ৪ বার নিট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের নিট পরীক্ষার আগেই এই নতুন মডেলগুলি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। পরীক্ষা ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন দেশের লক্ষ লক্ষ মেডিক্যাল aspirants-দের ভবিষ্যতের সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *