চাকরি ছাড়লেই পিএফ-এর সুদ বন্ধ? EPFO-র নতুন বার্তায় খুলল বড় রহস্য!

অবসরের পর পিএফ অ্যাকাউন্টের কী হবে? অধিকাংশ মানুষের ধারণা, অবসর নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবসর গ্রহণের পরেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ পাওয়া সম্ভব।

সুযোগ মিলবে কত বছর বয়স পর্যন্ত? EPFO-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মচারী ৫৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করলে তাঁর পিএফ অ্যাকাউন্টে আরও তিন বছর অর্থাৎ ৬১ বছর বয়স পর্যন্ত বার্ষিক সুদ জমা হতে থাকে। তবে এখানে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে—সুদ পেতে হলে ওই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নতুন কোনো ইপিএফ-ভুক্ত চাকরিতে যোগ দেওয়া চলবে না। ৬১ বছর বয়স পেরিয়ে গেলে অ্যাকাউন্টটি ‘ইনঅপারেটিভ’ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, এরপর আর কোনো সুদ জমা হয় না।

৬১ বছরের পর কি টাকা খোয়া যায়? অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, ৬১ বছরের পর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে জমানো টাকা কি আর পাওয়া যাবে না? EPFO আশ্বস্ত করেছে, ৬১ বছর বয়সের পর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হলেও গচ্ছিত মূলধন সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে। সদস্য বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি) নিয়ম মেনে যেকোনো সময় ওই টাকা তোলার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬১ বছর বয়স হওয়ার আগেই টাকা তুলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, এতে বাড়তি সুদের সুবিধা বজায় থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক কোনো ঝুঁকি থাকে না।

EPFO-র আধুনিক পরিষেবা সদস্যদের হয়রানি কমাতে EPFO সম্প্রতি বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘অটো-সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়া চালুর ফলে এখন দাবি নিষ্পত্তির গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল ভেরিফিকেশন এবং ওয়েবসাইটের মানোন্নয়নের মাধ্যমে কাগজপত্রের জটিলতাও অনেকটাই কমানো হয়েছে। যদিও গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, এখনও কিছু ক্ষেত্রে দাবি নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে, যা নিয়ে সংস্থাটিকে আরও সজাগ হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ৫৮ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পরই তাড়াহুড়ো করে টাকা তোলার প্রয়োজন নেই, যদি না আপনার তাৎক্ষণিক কোনো বড় আর্থিক প্রয়োজন থাকে। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়ে তবেই টাকা তোলার পরিকল্পনা করুন। মনে রাখবেন, ৬১ বছর বয়সের আগেই এই পরিকল্পনা সেরে ফেলা শ্রেয়। কোনো সংশয় বা সমস্যার ক্ষেত্রে সরাসরি EPFO-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ‘Contact Us’ ট্যাবে গিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *