ভারতবিরোধী ষড়যন্ত্রে মদত: পহেলগাঁও গণহত্যায় মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সাঈদের নাম জুড়ে কড়া বার্তা তদন্তকারী সংস্থার

গত বছরের ভয়াবহ পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্তে এল বড়সড় মোড়। পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে সোমবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দাখিল করল। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
চার্জশিটের গুরুত্ব: সোমবার জম্মুর এনআইএ স্পেশাল কোর্টে এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। হাফিজ সাঈদকে ব্যক্তিগতভাবে এবং সংগঠনের প্রধান হিসেবে এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এনআইএ-র দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং সীমান্তের ওপার থেকে এই হামলার পুরো ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল হাফিজ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং কঠোর ইউএপিএ (UAPA) আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের লক্ষ্য করে এক নৃশংস হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ (২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা) প্রাণ হারিয়েছিলেন। হামলাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। প্রাথমিকভাবে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে তা এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তদন্তে যা জানা গেছে: এনআইএ-র গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে যে, হামলার পরিকল্পনা, রসদ জোগান এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে পাকিস্তানের সক্রিয় মদত ছিল। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, ডিজিটাল ফরেনসিক এবং মাঠপর্যায়ের প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিটটি তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে দাখিল করা মূল চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাট এবং নিহত তিন জঙ্গির নাম থাকলেও, এবার সরাসরি হাফিজ সাঈদকে অভিযুক্ত করায় মামলার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চার্জশিট কেবল দেশের আইনি লড়াইকেই শক্তিশালী করবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদকে আবারও কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। বর্তমানে এনআইএ এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।