“আঁচড়, কামড়, মাথায় গভীর ক্ষত”-বারুইপুরের নাবালিকার পোস্টমর্টেমের প্রাথমিক রিপোর্ট

বারুইপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সামনে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট কার্যত শিউরে ওঠার মতো। জানা যাচ্ছে, নির্যাতিতার শরীরে অসংখ্য আঁচড় ও কামড়ের দাগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ধরণ দেখে পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরাও স্তম্ভিত।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যা জানা গেল: রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তার মাথায় ভারী কোনো বস্তুর সাহায্যে প্রবল আঘাত করা হয়, যাতে সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। এরপরই তাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, পুকুরে ফেলার সময়ও ওই নাবালিকা জীবিত ছিল। বস্তাবন্দি অবস্থায় শ্বাস নিতে না পেরে জলে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার পাকস্থলী ও ফুসফুসে জল ঢুকে ফুলে গিয়েছিল এবং মাথায় আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

তদন্ত ও গ্রেফতারি: এই নৃশংস ঘটনায় এখনো পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম— দিবাকর সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তাল ছিল বারুইপুর। বিক্ষোভ, পথ অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনায় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছিল। ঘটনায় গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনাতেও পৃথক মামলা রুজু হয়েছে।

মঙ্গলবার বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী: নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারই পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। আজ, সোমবারও মুখ্যমন্ত্রী ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার দোষীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা সর্বোচ্চ সাজার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামীকাল, মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

পুরো এলাকা বর্তমানে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *