মহারাষ্ট্রে প্রকৃতির তাণ্ডব! ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৬২৫ মিমি বৃষ্টি! বন্ধ এক্সপ্রেসওয়ে, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ প্রশাসনের

ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা আর একের পর এক ভূমিধসে কার্যত বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের লোনাভালায় রেকর্ড ৬২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে একদিনে সর্বোচ্চ। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) বা বাড়ি থেকে কাজের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য অর্ধদিবসের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে।
৭০-৯০ কিমি বেগে ঝড়, জারি রেড অ্যালার্ট
ক্যাবিনেট মন্ত্রী গিরিশ মহাজন জানিয়েছেন, রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় এই মুহূর্তে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে প্রবল বাতাস বইছে। একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট (Red Alert)। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘরের বাইরে না বের হন। একই সাথে পর্যটকদের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিপর্যস্ত বিমান ও রেল পরিষেবা
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে থমকে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে মুম্বাই ও দিল্লিগামী একাধিক ফ্লাইট ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা দেওয়ার আগে ফ্লাইটের লাইভ স্ট্যাটাস চেক করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রেল পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
পশ্চিম রেল: ভায়ান্দার ও ভাসাইয়ের মাঝে একটি রেলসেতুর রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু লোকাল বাতিল করা হয়েছে। ফলে ভায়ান্দার স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
চার্চগেট-দাহানু রুট: পালঘর জেলার সাফালে রেল স্টেশনের লাইন জলের তলায় চলে যাওয়ায় ভাসাইয়ের পর থেকে চার্চগেট-দাহানু লোকাল পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
জলমগ্ন একাধিক এলাকা, মন্দিরে ঢুকল বন্যার জল
ভাসাই-ভিরার, মধুবাণসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলের তলায়। অবিরাম বৃষ্টির জেরে রায়গড় জেলার আম্বা নদীসহ একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। মুম্বাই-গোয়া মহাসড়কেও জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল থমকে গেছে। এমনকি, বিখ্যাত অষ্টবিনায়ক শ্রী বল্লেশ্বর মন্দিরের ভেতরেও বন্যার জল ঢুকে পড়েছে, যার ফলে সম্পূর্ণ মন্দির চত্বরটি জলমগ্ন।
ভূমিধসের আশঙ্কায় এবং নিরাপত্তার খাতিরে ইতিমধ্যেই মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মেনে প্রশাসন জনগণকে সতর্ক থাকার এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।