এআই-এর অপব্যবহার রুখতে আসছে কড়া আইন! বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার

সাইবার জগত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) ক্রমবর্ধমান অপব্যবহার রুখতে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বর্তমান আইনি কাঠামো এই আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, তাই সরকার একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব এস. কৃষ্ণান।

কেন নতুন আইনের প্রয়োজন?
আইটি সচিবের মতে, ডিপফেক (Deepfake) ও লেবেলিংয়ের মতো বিষয়গুলো বিদ্যমান আইনে কিছুটা ধরা গেলেও, এআই যেভাবে প্রতিদিন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তাতে বর্তমান আইনি কাঠামো অকেজো। বিশেষজ্ঞ সন্দীপ বুদকির কথায়, প্রচলিত আইন মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি, যন্ত্রের (AI) জন্য নয়। তাই ভারতের কোটি কোটি মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত নতুন আইনের প্রয়োজন।

আইনের প্রধান লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ:

জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা: ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা এআই অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তা ডেভেলপারদের কাছেও অস্পষ্ট। এআই চালিত রোবট বা গাড়ির ভুলে দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার? এই অস্পষ্টতা কাটাতে নতুন আইন জরুরি।

মেধাস্বত্ব ও কপিরাইট জটিলতা: এআই-এর তৈরি ছবি, কোড বা সংগীতের প্রকৃত মালিক কে? অনুমতি ছাড়া এআই মডেলে কপিরাইটযুক্ত তথ্য ব্যবহারের ফলে উদ্ভূত জটিলতা বিদ্যমান আইন সামলাতে অক্ষম।

আদালতে এআই জালিয়াতি: চ্যাটজিপিটি বা এআই ব্যবহার করে ভুয়া আইনি রায় তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে সাফ জানিয়েছে, এআই কেবল সহায়তার জন্য, সিদ্ধান্তের জন্য নয়। যাচাই ছাড়া এআই-এর তথ্য ব্যবহার করলে তা পেশাগত অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।

ডিপফেক ও বিভ্রান্তি: পরিচিত মানুষের মুখ বা কণ্ঠস্বর নকল করে আর্থিক জালিয়াতি বা মানহানির ঘটনা বাড়ছে। আইনি প্রক্রিয়ার ধীর গতির সুযোগ নিয়ে এই প্রযুক্তি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি করে ফেলছে দ্রুত।

অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত: ঋণ দেওয়া বা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এআই পুরোনো ডেটা বিশ্লেষণ করে লিঙ্গ বা জাতিগত বৈষম্য তৈরি করছে। মানবাধিকার আইন এখন এই ডিজিটাল বৈষম্য ধরতে ব্যর্থ।

গোপনীয়তা ও নজরদারি: মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও এআই প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ছে। ২০২৩ সালের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন থাকলেও, এআই প্রক্রিয়াকরণকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে তা যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করাই হবে নতুন আইনের আসল চ্যালেঞ্জ। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমানে বিভিন্ন এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে ভারত যে দ্রুত একটি যুগোপযোগী ও কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে, তা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *