বারুইপুরের ঘটনায় রাতভর তল্লাশি, নাবালিকা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২, আটক ৩

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
তদন্ত ও বিশেষ দল (SIT):
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশের পাশাপাশি SIT-এর সদস্যরা তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা হলেও, পুলিশ জানিয়েছে—ধর্ষণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। রবিবার রাতেই নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ওই নাবালিকা। রবিবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তাঁর বস্তাবন্দি দেহ। এর পরেই সূর্যপুর এলাকায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উত্তেজিত জনতা দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনার সূত্রেই ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামের এক স্থানীয় যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের সঙ্গে সন্দেহভাজন প্রভাস নামের এক ব্যক্তিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। প্রভাসকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে নিহত কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এর পরেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, শনিবার বিকেলে অভিযুক্তের অটোতেই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগের সূত্র ধরেই বাকি অপরাধীদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপ: ধৃতদের সোমবারই বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। ঘটনার জেরে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।