টানা ৩০ ঘণ্টা জলভর্তি অ্যাকোয়ারিয়ামে ডুব, হাওড়ার চা বিক্রেতা করলেন নয়া রেকর্ড

ছোটবেলা থেকেই দুঃসাহসিক কাজে অভ্যস্ত হাওড়ার মুকেশ গুপ্তা। গঙ্গায় সাঁতার কেটে মায়ানমার যাওয়া বা ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার মতো একাধিক নজির রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে, রামকৃষ্ণপুর ঘাটের ধারে ৩x২x২ ফুটের একটি অ্যাকোয়ারিয়ামের ভেতর টানা ৩০ ঘণ্টা ডুবে থেকে অনন্য নজির গড়লেন এই যুবক।

কীভাবে সম্পন্ন হলো এই চ্যালেঞ্জ? শুক্রবার দুপুরে চ্যালেঞ্জ শুরু করেন মুকেশ। অ্যাকোয়ারিয়ামে গুটিসুটি মেরে বসে থেকে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পার করেন তিনি। শ্বাস নেওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গী ছিল কেবল একটি বাঁশের নল এবং চোখের সুরক্ষায় ছিল একটি ওয়াটার গগলস। শনিবার সন্ধ্যায় জল থেকে ওঠার পর শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও, চিকিৎসকরা তাঁকে প্রাথমিক পরীক্ষার পর সুস্থ ঘোষণা করেছেন। যুবক জানান, দীর্ঘ সময় জলে থাকায় হাত ও পায়ের চামড়া কুঁচকে যাওয়া ছাড়া তাঁর বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা হয়নি।

অভাবী জীবনে আলোর রেখা: জানা গেছে, মুকেশ ও তাঁর মা এলাকায় একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালাতেন। তবে সম্প্রতি দোকানটি ভেঙে পড়ার পর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। এই অবসরের সময়টাকেই তিনি কাজে লাগালেন রেকর্ডের লক্ষ্যে। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে হাজির হন রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই। মুকেশের অদম্য সাহসের প্রশংসা করে মন্ত্রী তাঁকে সরকারি চাকরির আশ্বাসও দিয়েছেন।

মুকেশের রেকর্ড-যাত্রা: সাঁতারে ছোটবেলা থেকেই ওস্তাদ মুকেশ বরাবরই অসাধ্যকে সঙ্গী করতে চেয়েছেন। এর আগে হাত বেঁধে গঙ্গা পার হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে অ্যাকোয়ারিয়ামের ভেতরে এই দীর্ঘক্ষণ কাটানোর চ্যালেঞ্জটিকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

এই কীর্তি প্রমাণ করে, সুযোগ ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *