বিলুপ্তির পথে থাকা বিরল প্রজাতির এই গরুর দাম ৫-৬ লক্ষ টাকা! কেন এত বিশেষ এই পুঙ্গানুর জাত?

ভারতের গবাদি পশু সম্পদ ও দেশীয় জাতের মধ্যে এক অনন্য নাম ‘পুঙ্গানুর’। অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার এই ক্ষুদ্রকায় গরুটি বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। উচ্চ চর্বিযুক্ত পুষ্টিকর দুধের পাশাপাশি গোবর ও গোমূত্র বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ থাকায়, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এটি এখন লাভজনক ব্যবসার অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে।
পুঙ্গানুর গরু কেন এত বিশেষ? স্থানীয় ভাষায় একে ‘চিট্টিপোট্টি পুঙ্গানুর’ বলা হয়, যার অর্থ ‘ছোট দেহের গরু’। এটি বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম গরু হিসেবে পরিচিত। এদের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো:
-
উন্নত মানের দুধ: এই জাতের দুধ ৬ থেকে ৮.৫ শতাংশ চর্বিযুক্ত, যা বিদেশি জাতের গরুর চেয়ে অনেক বেশি ঘন ও পুষ্টিকর।
-
সহজ রক্ষণাবেক্ষণ: সীমিত খাদ্য এবং গরম আবহাওয়ায় টিকে থাকার অসামান্য ক্ষমতা রয়েছে এদের।
-
অতিরিক্ত আয়: এদের গোবর ভার্মিকম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং গোমূত্র থেকেও কৃষকরা নিয়মিত আয় করেন। একজন গবাদি পশুপালক শুধু গোবর ও গোমূত্র বিক্রি করেই মাসে ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
বিলুপ্তি থেকে সুরক্ষার উদ্যোগ একসময় জার্সি বা এইচএফ-এর মতো বিদেশি জাতের দাপটে এই দেশি গরুর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেয়েছিল। বর্তমানে রাজ্য সরকার এবং শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিতভাবে এই বিপন্ন প্রজাতিকে বাঁচাতে আধুনিক ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (IVF) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ৬৫০টি বিশুদ্ধ প্রজাতির পুঙ্গানুর গরু অবশিষ্ট রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল্য ও চাহিদা: পুঙ্গানুর গরুর চাহিদা এতই বেশি যে, একটি বিশুদ্ধ জাতের গরুর দাম ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর ছোট গঠন ও ধর্মীয় কাজের জন্য ব্যবহারের কারণে সাদা ও লাল রঙের পুঙ্গানুর জাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জৈব চাষের প্রসার এবং ভেজালহীন দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদার যুগে, পুঙ্গানুর গরু পালন ছোট কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথ দেখাতে পারে। এটি কেবল একটি বিরল প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।