বাগদাদের গ্রিন জোনে গভীর রাতের অভিযান: ইরাকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবিরোধী অ্যাকশন!

ইরাকের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নির্দেশে রাজধানী বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’-এ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৭ জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, আইনপ্রণেতা এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
গভীর রাতের অ্যাকশন: রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে ইরাকের অভিজাত সন্ত্রাস দমন পরিষেবা এই অভিযানটি পরিচালনা করে। দুর্নীতির চক্র ভেঙে দিতে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
কারা রয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়াদের তালিকায়? আটককৃতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো দেশটির তেল বিতরণ উপমন্ত্রী আলী মারিজ। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি জাল নথি ব্যবহার করে ইরাকের তেল ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কাছে পাচার করতেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তিনি এই জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
কেন এই অভিযান? চলতি বছরের মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সরকারি তহবিল রক্ষা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে বেশ কয়েকজনকে ধরলেও, অভিযানের আঁচ পেয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যাদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে এটি প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। এই অভিযানের মাধ্যমে তিনি দেশের জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।