গুগল সার্চ আর কুসংস্কারের ভয়ংকর পরিণতি: চোখ বাঁচাতে গিয়ে দৃষ্টি হারালেন যুবক!

মানুষের জীবনে কুসংস্কার কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ উদাহরণ সামনে এল চীন থেকে। চোখের কাঁপুনিকে ‘অশুভ লক্ষণ’ ভেবে তা বন্ধ করতে গিয়ে নিজের চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে ফেললেন এক ব্যক্তি। টানা তিন দিন নিজের চোখে চড় মারার ফলে তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলেন।

কী ঘটেছিল সেই ব্যক্তির সাথে? চীনের উহানের বাসিন্দা ‘লে’ নামের ওই ব্যক্তির ডান চোখ বেশ কয়েকদিন ধরে কাঁপছিল। প্রচলিত কুসংস্কার অনুযায়ী, চীনে বিশ্বাস করা হয় যে ডান চোখ কাঁপলে কোনো বিপদ আসে। এই ভয় থেকেই তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে তিনি ইন্টারনেটে সমাধানের খোঁজ শুরু করেন। সেখানে কোনো ভুল তথ্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি চোখের পাতায় ক্রমাগত চাপড় মারতে শুরু করেন। টানা তিন দিন এই কাজ করার ফলে তাঁর চোখের রেটিনা স্থানচ্যুত (Retinal Detachment) হয়ে যায়।

ডাক্তারদের সতর্কবার্তা প্রাথমিক অবস্থায় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় তিনি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের তৎপরতায় দ্রুত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিষয়টি আর সামান্য দেরি হলেই তিনি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতেন।

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী:

  • চোখের রেটিনা কাগজের চেয়েও পাতলা (০.৩ মিলিমিটারের কম) এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল।

  • চোখে জোরে আঘাত লাগলে তা সরাসরি রেটিনার ক্ষতি করে, যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ।

  • চোখের কাঁপুনি কোনো অশুভ লক্ষণ নয়; এটি সাধারণত অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা অনিদ্রার ফল।

সতর্কতা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ইন্টারনেটে বা অন্ধবিশ্বাসে ভরসা করে চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে কোনো ধরনের আঘাত করবেন না। চোখের যেকোনো অস্বাভাবিকতায় দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *