অভিষেকের পিএ সুমিত রায় বাসে পালিয়ে যাচ্ছেন! গঙ্গারামপুরে বিজেপি-র বাস আটক ঘিরে তুুমুল হট্টগোল

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পলাতক পিএ (ব্যক্তিগত সহকারী) সুমিত রায়কে বাসে দেখা গিয়েছে—এমন খবর চাউর হতেই বৃহস্পতিবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর পুরসভার চৌপতি এলাকা। বিজেপি কর্মীদের বাস আটকানো থেকে শুরু করে পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন—পুরো বিষয়টি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
বৃহস্পতিবার রাতে খবর রটে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় বাসে করে ছদ্মবেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব তড়িঘড়ি কলকাতাগামী একটি বাস আটকে দেয়। হঠাৎ পুলিশ ও সাধারণ মানুষের হুড়োহুড়িতে বাসের অন্য যাত্রীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তদন্তে বেরিয়ে এল আসল সত্য:
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গঙ্গারামপুর থানার আইসি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসে থাকা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশি পরিচয়পত্র ও তথ্য যাচাইয়ের পর জানা যায়, ওই ব্যক্তি সুমিত রায় নন। তাঁর আসল নাম শরিফুল আলম।
পুলিশ সূত্রে খবর, শরিফুল আলম একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষিতে তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আইবি (IB) অফিসে কর্মরত রয়েছেন। ভুল নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ বাসটি ছেড়ে দেয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
কী বলছে বিজেপি?
পুরো বিষয়টি নিয়ে গঙ্গারামপুর টাউন বিজেপির সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ বলেন, “সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুমিত রায় বলে একটি বাস আটকায়। আমরা খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে জানাই। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উনি সুমিত রায় নন, প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।”
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি বড় কোনো রাজনৈতিক ধামাকা বলে মনে হলেও, শেষপর্যন্ত তা নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’তেই পর্যবসিত হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।