নিট পরীক্ষার দিনই ডাকাতি! বিহারের কুখ্যাত ডাকাতের মাস্টারপ্ল্যান দেখে চমকে গেল পুলিশ

কারাগারের চার দেওয়াল কি অপরাধীকে আটকে রাখতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তেলেঙ্গানা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এল এক হাড়হিম করা তথ্য। জেলখানায় বন্দী থেকেও শত শত কিলোমিটার দূরে তেলেঙ্গানার করিমনগরে ৮২ লক্ষ টাকার গয়না ডাকাতির ছক কষেছিল বিহারের কুখ্যাত ডাকাত সুবোধ সিং।
পরিকল্পনা যেভাবে: ঘটনাটি গত ৩ মে-র। করিমনগরের নামী ‘পিএমজে জুয়েলার্স’-এ যখন ডাকাতি হয়, তখন সারা দেশ নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতির ব্যস্ততায় মগ্ন ছিল। পুলিশি সূত্রে খবর, পরীক্ষার দিনটিকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে ছিল সুবোধের সুচিন্তিত পরিকল্পনা। উদ্দেশ্য ছিল, পুলিশের নজর পরীক্ষার ডিউটিতে থাকবে, আর সেই সুযোগে অবাধে কাজ সারবে অপরাধীরা।
কীভাবে কাজ করত চক্রটি? তদন্তে জানা গেছে, ডাকাতির প্রায় দু’মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। শোরুমের নিরাপত্তা ও অলিগলির খবর জানতে একজন চিত্রশিল্পীর ছদ্মবেশে রেইকি করা হয়। বিহার থেকে আসা অপরাধীরা সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রাতে শোরুম ফাঁকা করে প্রায় ১৬১ তোলা সোনা ও ১১২ কেজি রুপা নিয়ে চম্পট দেয়।
জেল থেকে অপারেশন: পুলিশি জেরায় পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। জানা যায়, বিহারের পূর্ণিয়া জেলে বন্দী থাকা সুবোধ সিং একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে জেলের ভেতর থেকেই সারা দেশের আন্তঃরাজ্য গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করছিল। পুলিশ যাতে সহজে তাদের ট্র্যাক করতে না পারে, তার জন্য অত্যন্ত সতর্ক ছিল এই গ্যাং।
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ: সুবোধ সিংয়ের নাম উঠে আসতেই হায়দ্রাবাদ পুলিশের একটি বিশেষ দল পূর্ণিয়া জেলে পৌঁছায়। প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তাকে কড়া নিরাপত্তায় তেলেঙ্গানায় নিয়ে আসা হয়েছে। করিমনগর পুলিশ কমিশনার গৌশা আলম জানিয়েছেন, সুবোধের এই ডিজিটাল জাল এবং জেলের ভেতর তার প্রভাব খাটানোর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনা কেবল পুলিশ প্রশাসনকেই নয়, কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জেলের ভেতরে বসে কীভাবে এই ধরনের অপরাধমূলক অ্যাপ চালানো সম্ভব হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।