২০৩৬ অলিম্পিক লক্ষ্য ভারতের, ডোপিং রুখতে ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়ার বড় পদক্ষেপ!

ভারতের ক্রীড়াজগতকে ডোপিং মুক্ত করতে এবার আরও কঠোর পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদে পেশ করা হতে পারে ‘অ্যান্টি-ডোপিং বিল ২০২৬’। এই নতুন বিলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, শুধু ক্রীড়াবিদ নন, ডোপিং চক্রের সাথে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা।

আইনের জালে কারা আসবে? এখন পর্যন্ত ডোপিং পরীক্ষায় কেউ পজিটিভ হলে শাস্তি পেতেন কেবল ক্রীড়াবিদ। কিন্তু নতুন বিলে সেই নিয়মে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। সূত্রের খবর, এই আইনের আওতায় আসবে:

  • ওষুধ সরবরাহকারী: যারা অবৈধভাবে নিষিদ্ধ পদার্থ পাচার বা বিক্রি করে।

  • কোচ ও ট্রেইনার: যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ডোপিংয়ে উস্কানি দেয়।

  • হোস্টেল প্রশাসক: যারা ডোপিং চক্রকে আশ্রয় বা সহযোগিতা প্রদান করে।

  • অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি: যারা সামগ্রিকভাবে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।

শাস্তির বিধান: প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ক্রীড়াবিদকে ডোপিং করতে প্ররোচিত করলে বা সহায়তা করলে ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, নিষিদ্ধ মাদক সরবরাহকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডোপিং এখন শুধু খেলার নিয়ম লঙ্ঘন নয়, এটি খেলোয়াড়দের শোষণের একটি সংগঠিত অপরাধ।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ডোপিং-বিরোধী সংস্থা (WADA)-র তালিকায় ডোপিংয়ের দায়ে ভারতের নাম বারবার উঠে আসছে। ২০৩৬ সালে অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে ভারত, তার আগে এই কলঙ্ক মুছে ফেলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। ২০১৮ সালের একটি খসড়াকে ভিত্তি করেই এই নতুন ও উন্নত বিলটি তৈরি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রক এই খসড়াটি জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে। সবপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সংশোধনীটি বর্ষাকালীন অধিবেশনে পেশ করা হবে। ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *