মিউটেশনের নামে কোটি টাকার তোলাবাজি? বিধাননগর পুরনিগমের রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

মিউটেশনের নামে আমজনতার পকেট কাটার অভিযোগ উঠেছে বিধাননগর পুরনিগমের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এই প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের টাকা ‘তোলা’ হিসেবে আদায়ের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এই মামলায় বুধবার বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী রাজ্য ও বিধাননগর পুরনিগমকে কড়া ভাষায় তলব করেছেন।

আদালতের তোপ ও নির্দেশ: হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছে মিউটেশনের জন্য এমন কোনো লেভি বা অতিরিক্ত ফি তোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাহলে এত বছর ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে বিপুল টাকা তোলা হয়েছে, তার হিসেব কোথায়? এই প্রশ্ন তুলেই রাজ্য ও পুরনিগমকে আগামী মঙ্গলবার সমস্ত নথি নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির ভয়াবহ নজির: মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী অরিন্দম দাস আদালতে যে তথ্য পেশ করেছেন, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তাঁর অভিযোগ:

  • প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি: ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের আমলে পুরনিগমের তহবিলে টান পড়ার অজুহাতে এই বাড়তি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

  • ফি বনাম তোলা: সল্টলেক সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ফ্ল্যাট মিউটেশনের উদাহরণ দিয়ে আইনজীবী জানান, যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি হওয়ার কথা মাত্র ৩০০ টাকা, সেখানে পুরনিগম ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করেছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর: কলকাতা পুরনিগম বাদে রাজ্যের প্রায় সব পুরসভাতেই মিউটেশনের নামে এভাবে মোটা টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বিধাননগর পুরনিগমের বিরুদ্ধে এই মামলা শাসকদলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে বর্তমান সরকার, এবার কি তাহলে ‘মিউটেশন দুর্নীতি’ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: আগামী মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশের পর পুরনিগম কর্তৃপক্ষ কী জবাব দেয়, সেটাই এখন দেখার। যদি হিসেব না মেলে, তবে পুরনিগমের বিরুদ্ধে বড় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *