ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য চীনের ওপর আর ভরসা নয়! ভারতের আত্মনির্ভর হওয়ার পথে বড় বার্তা মোদী সরকারের

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপদেষ্টা তরুণ কাপুর। শিল্প সংস্থা অ্যাসোচেম (ASSOCHAM)-এর এক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ালেই হবে না, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও খনিজ সম্পদের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতাও কমাতে হবে।

কেন এই সতর্কতা? তরুণ কাপুর জানান, সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংকট বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতাকে আবারও সামনে এনেছে। ভারত খনিজ তেলের আমদানির ওপর যেভাবে নির্ভরশীল, তা দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রার মানের জন্য বড় ঝুঁকি। তাই দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে ইলেকট্রিক যানবাহনের বিকল্প নেই।

৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ই বড় পরিবর্তন: তরুণ কাপুরের মতে, রাতারাতি পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে যদি পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার অন্তত ৫ শতাংশ কমানো যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার ভাষ্য অনুযায়ী:

  • দেশে ব্যবহৃত মোট পেট্রোলের প্রায় ৬০ শতাংশ খরচ হয় দুই-চাকার বাহনে। তাই ইলেকট্রিক বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

  • চার-চাকার ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে এখনও উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর বার্তা: তরুণ কাপুর স্পষ্ট করেছেন যে, ইলেকট্রিক গাড়ির যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে ভারতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের স্থানীয়ভাবে এই খনিজ ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে চীন কোনো কারণে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও ভারতীয় শিল্পখাত যেন থমকে না যায়।”

ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা: সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ৫ বছরের মধ্যে ভারতীয় রাস্তাগুলোতে প্রচুর ইলেকট্রিক যানবাহন নামানোর একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তরুণ কাপুর শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করেছেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে। ইলেকট্রিক যানবাহন নীতি নিয়ে দিল্লি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

ভারত যে এখন একটি বিশাল ‘ইলেকট্রিক ট্রান্সপোর্টেশন হাব’ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা তরুণ কাপুরের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। সরকারের এই লক্ষ্য পূরণ হলে তা শুধু পরিবেশের জন্যই নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্যও হবে বড় জয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *