বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করছে বিরোধীরা? এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন আইনজীবীর বিশেষ ভাষ্য

এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়কে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। গ্রাম প্রধানদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করার যে প্রথা সরকার গ্রহণ করেছিল, তাকে আদালত ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের রায়ের আইনি তাৎপর্য এবং বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে নিজের বিশেষ মতামত তুলে ধরেছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী সুরেশ বাহাদুর সিং।

বিচার বিভাগীয় রায়ের রাজনৈতিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ সুরেশ বাহাদুর সিংয়ের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আদালত যখন কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক পর্যালোচনা করে, তখন তা সরকারের পরাজয় বা বিরোধীদের জয়ের বিষয় নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। বর্তমানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালতের প্রতিটি রায়কে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির চশমা দিয়ে দেখার প্রবণতা বাড়ছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের প্রাক্তন এই আইনজীবীর অভিযোগ, গ্রামীণ উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগের মতো একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যাতে উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ না হয়। সরকার যখন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন বিরোধী দলগুলো আদালতের রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রচারণার’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ ত্যাগ করে জনস্বার্থে সরকারের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত গণতান্ত্রিক কর্তব্য।

বিভ্রম বনাম বাস্তবতা প্রতিবেদনে বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সুরেশ বাহাদুর সিং সতর্ক করেছেন:

  • ভুল ধারণা: বিরোধীরা দাবি করছে যে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অসাংবিধানিক পথে হেঁটেছে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থেই সরকার এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছিল।

  • সংবিধানের সৌন্দর্য: আদালত কোনো বিধানকে সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করলে সরকার তা মেনে নিতে পারে অথবা আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। এই ভারসাম্যই ভারতের সংবিধানের আসল শক্তি।

উন্নয়ন বনাম রাজনীতি সুরেশ বাহাদুর সিং-এর মতে, আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনই গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন। প্রশাসনিক স্থবিরতা এড়াতে নেওয়া সিদ্ধান্তকে ‘সংবিধান লঙ্ঘন’ বলে দেগে দেওয়াটা একপ্রকার মিথ্যা প্রচার, যা আখেরে সাধারণ মানুষের ক্ষতিই করছে।

পরিশেষে, আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যেকার এই ভারসাম্যই দেশের শাসনের মূল ভিত্তি। বিরোধীদের উচিত বিচারিক রায়কে বিভ্রান্তির হাতিয়ার না বানিয়ে বরং গঠনমূলক সমালোচনার পথে হাঁটা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *