একই পরিবারের ওপর অভিশাপ? দেওঘরে মা ও ছেলের খুনে ঝাড়খণ্ডে চাঞ্চল্য, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলায় মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোনরাইথাড়ি থানা এলাকার নাভাদিহ গ্রামে নিজ বাসভবনে খুন হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী রুবিদা খাতুন ও তাঁর ১৪ বছর বয়সী ছেলে ছোটু। অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাঁদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রহস্য এই হত্যাকাণ্ডটি সাধারণ অপরাধের চেয়েও বড় কোনো রহস্যের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কারণ, প্রায় চার বছর আগে ২০২২ সালে একই পরিবারের প্রধান অর্থাৎ রুবিদার স্বামী রিয়াজ আহমেদকেও একইভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। চার বছরের ব্যবধানে একই পরিবারের সদস্যের ওপর দুবার এমন নৃশংস আক্রমণের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, বর্তমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে চার বছর আগের রিয়াজ আহমেদ হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না।
তদন্ত ও প্রশাসনিক তৎপরতা ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দেওঘরের পুলিশ সুপার (এসপি) প্রবীণ পুষ্কর বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তের গতি বাড়াতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
-
ফরেনসিক তদন্ত: বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল তলব করা হয়েছে।
-
প্রযুক্তিগত তদন্ত: অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
-
ময়নাতদন্ত: মা ও ছেলের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার প্রবীণ পুষ্কর জানান, অপরাধীরা এই খুনের পেছনে কী উদ্দেশ্য নিয়েছিল তা এখনও অস্পষ্ট। তবে তদন্তকারীরা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে শুরু করে সম্পত্তির অধিকার—প্রতিটি দিকই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, দ্রুত এই খুনের কিনারা করা হবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
একই পরিবারের একের পর এক খুনের ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে গভীর নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ এখন রিয়াজ আহমেদের পুরনো মামলার নথিপত্র এবং বর্তমান খুনের পারিপার্শ্বিক প্রমাণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করছে।