সরকারি জমি দখল করে জালিয়াতি! উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ

উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে ১০১ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি জালিয়াতি ও দখলের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তখত গোসাইন গ্রামের প্রায় ৩৮ বিঘা গ্রামসভার জমি নিয়মবহির্ভূতভাবে দখলের অভিযোগে প্রাক্তন ইও (কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা) ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৩২ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
দুর্নীতির নেপথ্যে কী ছিল? প্রশাসনিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ১৯৬৭ সালে পৌরসভা নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই জমিটি ইজারা দিয়েছিল। সেই অবৈধ ইজারাকে কাজে লাগিয়ে ২০০৮ সালে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ জমি সরকারি খাতা থেকে ব্যক্তিগত মালিকানায় মিউটেশন করিয়ে নেওয়া হয়। এতে জড়িতদের মধ্যে প্রাক্তন পৌর ইও রাজকুমার গুপ্ত, প্রাক্তন চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজন, একজন বিএসপি নেতার তিন পুত্র এবং একত্রীকরণ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর নাম উঠে এসেছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: তদন্তের ভিত্তিতে একত্রীকরণ আদালতের উপ-পরিচালকের নির্দেশ অনুযায়ী, খাতাউনি থেকে ব্যক্তিগত মালিকদের নাম মুছে ফেলা হয় এবং জমিটি পুনরায় গ্রাম সভার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঙ্কিত খান্ডেলওয়াল এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোইয়ের সরাসরি উপস্থিতিতে রাজস্ব বিভাগ জমিটি মেপে সরকারি দখলে নিয়ে নিয়েছে।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঙ্কিত খান্ডেলওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল, নথিপত্র জাল করা এবং রাজস্ব দপ্তরের রেকর্ডে কারচুপির মতো গুরুতর অপরাধে কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি জানান:
-
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
-
পুলিশের একটি বিশেষ দল বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।
-
প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে এলাকাবাসী স্বাগত জানালেও, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় পুরো বিষয়টির ওপর নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।